fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৩০শে নভেম্বর ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

আজ ঋত্বিক ঘটকের প্রয়াণ দিবস

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

বিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান পরিচালক ঋত্বিক কুমার ঘটক। বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের ভেতর তিনি সত্যজিৎ এবং মৃণাল সেনের সাথে তুলনীয়। ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে তিনি যেমন প্রশংসিত ছিলেন, ঠিক তেমনি বিতর্কিত ভূমিকাও রাখেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি বহুল উচ্চারিত নাম। আজ এই কিংবদন্তীর প্রয়াণ দিবস!

ঋত্বিক ঘটকের জন্ম ৪ নভেম্বর, ২০২৫ অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের(বর্তমান বাংলাদেশ) রাজশাহীর মিয়াপাড়ায়। মৃত্যু ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬।

ঋত্বিক ঘটক তার প্রথম নাটক ‘কালো সায়র’ লেখেন ১৯৪৮ সালে। একই বছর তিনি ‘নবান্ন’ নামক পুণর্জাগরণমূলক নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘে(আইপিটিএ) যোগদান করেন। এ সময় তিনি নাটক লেখেন, পরিচালনা করেন ও অভিনয় করেন। বার্টোল ব্রেখট এবং নিকোলাই গোগোল এর রচনাবলী বাংলায় অনুবাদ করেন। ‘জ্বালা’ নাটকটি ছিল তার পরিচালনায় শেষ নাটক। নাটকটি তিনি পরিচালনা করেন ১৯৫৭ সালে।

ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন নিমাই ঘোষের ‘ছিন্নমূল’(১৯৫১) সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমায় তিনি একই সাথে অভিনেতা এবং সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এর দু’বছর পর তার একক পরিচালনায় মুক্তি পায় সিনেমা ‘নাগরিক’। নানা ভোগান্তি পেরিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাগরিক’ তার জীবদ্দশায় মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে, দু’টি চলচ্চিত্রই ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতানুগতিক ধারাকে জোর ঝাঁকুনি দিতে সমর্থ হয়েছিল।

ঋত্বিক ঘটকের শ্রেষ্ঠ সিনেমারগুলোর ভেতর ‘অযান্ত্রিক’ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’ অন্যতম। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমার বিখ্যাত সংলাপ, ‘দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম’ এখনো সবার মুখে মুখে ফেরে। এটি ছিল তার পরিচালিত চতুর্থ এবং প্রথম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র।

‘অযান্ত্রিক’ সুবোধ ঘোষের ছোটো গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র। যে গল্পের চলচ্চিত্রায়নে ঋত্বিক নিজস্ব ভাবনা ছড়িয়ে দেবার স্বাধীনতা নিয়েছেন তার নিজস্ব স্বকীয়তার রেখা টেনেই। ‘অযান্ত্রিক’ নির্মিত হয়েছিল ১৯৫৭ সালে, মুক্তি পায়’ ৫৮-তে। নানা ভোগান্তি পেরিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাগরিক’ তার জীবদ্দশায় মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি।

‘সুবর্ণরেখা’ চলচ্চিত্রটি ১৯৬২ সালে তৈরি হলেও এটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। দেশভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছিল চলচ্চিত্রটি ১৯৯৮ সালে এশীয় চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘সিনেমায়া’ দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সমালোচকদের সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের সমীক্ষার তালিকায় সুবর্ণরেখা ১১তম স্থানে ছিল। একটি সমীক্ষায় সমালোচক গিরিশ শম্ভু এই চলচ্চিত্রটিকে “সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং পরিচালকদের মত অনুসারে এটি ৩২২তম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য হয়েছিল।

ঋত্বিক নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, সময় মতো সে সত্য বুঝতে বাঙালি ব্যর্থ হলেও তার চলে যাবার পর বাঙালির বিরাট একটা অংশ তাকে গুরু মানতে দ্বিধা করেনি। আর কে না জানে, গুরুবাক্য শ্রবণ, স্মরণ ও ধারণ করাকে দায়িত্বের বৃত্তে টেনে নেয়া যায় অনায়াসে। সে দায়িত্ববোধের তাগিদে বারবারই ঋত্বিকের কাজের কাছে যেতে হয়, মনোনিবেশ করতে হয় তার বিভিন্ন সময়ে বলা কথা বা সাক্ষাতকারেও।

বলা হয়ে থাকে, বাংলা ভাগ হওয়ার হাহাকার তার সিনেমায় যতটা উঠে এসেছে ততটা আর কারও সিনেমায় উঠে আসেনি। বাংলা ভাগের হাহাকার নিয়েই তিনি মারা যান। প্রয়াণ দিবসে তার প্রতি রইল অজস্র শ্রদ্ধা।

Advertisement
Share.

Leave A Reply