fbpx

‘আমি আরো তার প্রেমে পড়ে গেলাম’

Pinterest LinkedIn Tumblr +

তাঁকে বলা হয় এভার গ্রিন! শুধু পর্দায় নয় বাস্তবেও তিনি এভার গ্রিন! নিজের ৫২ বছরের ক্যারিয়ারে এখনও  তিনি  দাপিয়ে অভিনয় করছেন। এমনকি নতুনদের সাথে টক্কর দিয়ে। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন! বলছি সুবর্ণা মুস্তাফার কথা। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে  নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি লেখা পোস্ট করেছেন যা বিবিএস বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হল।

“সুবর্ণা আপা,তুমি কি জানো আজ তোমার কাজের ৫২ বছর!! তুমি ভাবতে পারো এখনো তুমি সদর্পে কাজ করছো এই প্রজন্মের সাথে??এবং তুমি আমাদের দেশের মাননীয় সাংসদ সদস্য?? হুম আমরা ভাবতেই পারি, কারণ তুমি যোগ্য।অভিনন্দন তোমাকে। অনেক ভালোবাসা, শুভ কামনা
আজ ২রা ডিসেম্বর।
আজকের এই দিনে পৃথিবীর বুক আলো করে এসেছিলেন আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী শক্তিমান অভিনয় শিল্পী গোলাম মুস্তাফা এবং রেডিও এর অনুষ্ঠান প্রযোজক ও লেখক হোসনে আরা মুস্তাফার কন্যা।
প্রথমে অভিনন্দন জানাই এই গুণী অভিনয় শিল্পীর মাকে। কাকীকে অভিনন্দন মা হবার জন্য। 
তার অভিনয় দেখে বড় হয়েছি। সাদা কালো টিভিতে সেই ইডিয়ট নাটক এখনও চোখের মনিতে লেগে আছে। তারপর থেকেই সাদা কালো রঙিন সহ অসংখ্য দারুণ দারুণ সব নাটক। মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। আমাদের বাসায় তো তখন টেলিভিশন ছিল না। আর আমার মা খুব কড়া ছিলেন। কিন্তু তার নাটক দেখার জন্য সব পড়া শেষ করে আমাদের প্রতিবেশী মমতা কস্তা,হেলেন কস্তা,দিলীপ কস্তার বাসায় যেতাম। সারাদিন আবেগী হয়ে থাকতাম। আশির দশকে মা ঘুড্ডি দেখাতে সিনেমা হলে নিয়ে গেলেন। মা জানতেন এই গুণী অভিনয় শিল্পীর কত্ত ভক্ত আমি! সেই তখন থেকে আমি তার ভক্ত। যার কথা শুনতে ইচ্ছা করে বার বার। যার কথা হা হয়ে শুনি এখনো। তারপর কেটে গেলো অনেক দিন। সুশিক্ষিত রুচিশীল মানুষটি দিনে দিনে আমার মগজে ঢুকে গেলো।
তার প্রতি আরো ভালো লাগা তৈরি হলো আমার সেইদিন, যেদিন তিনি এক কথায় জাতীয় পুরুস্কার রিফিউজ করলেন!!
আহ! কী ব্যাক্তিত্ব!! আমি আরো তার প্রেমে পড়ে গেলাম! মনে হলো একজন নারীর ব্যাক্তিত্ব এমনি হওয়া উচিত। শিখলাম।
আমি জানি আমি অত মেধাবী পরিচালক নই। কিন্ত আমি পরিশ্রমী।আমি ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে কাজ করি।
একদিন প্রিয় মানুষ বিপাশা কে বললাম,” আমাকে একটা স্ক্রিপ্ট দিবে যা আমি সুবর্ণা আপা কে দিতে পারবো!!”
বিপাশা বললো,”চয়ন আপা একটা স্ক্রিপ্ট আমার লাইন আপ করা আপনার ভালো লাগলে আমি লিখবো। আপনি ভালো বানাতে পারবেন।” বিপাশা আমাকে “ঘাসফুল” লিখে দিলো।মুগ্ধ করা স্ক্রিপ্ট।
দুরুদুরু বুকে কল দিয়ে তাকে স্ক্রিপ্ট পাঠালাম সকালেই। রাতেই তিনি আমাকে কল দিয়ে জানিয়ে শুটিং তারিখ দিলেন।
অন্য কিছু সো কল্ড স্টার শিল্পীদের মত দেরী হলো না। নাটকটি Rtv তে ঈদে গিয়েছিল। আমি বেষ্ট ডিরেক্টর হিসাবে CJFB পুরস্কার পেয়েছিলাম। তারপর ২০১১ সালে করা হলো আরেক টি টেলিফিল্ম অরুণ চৌধুরীর লেখা আকাশ জোড়া মেঘ।
তার সাথে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি এবং বুঝেছি আসলেই
“Old Is Gold”
২০১৭, ২০১৮ তে তাকে নিয়ে,তার সাথে অনেক অনেক ভালো কিছু কাজ করেছি।১০/১২ টা কাজ।
কাছে গিয়েছি,মুগ্ধ হয়েছি।এত্ত কেয়ারিং একজন মানুষ! নিজ হাতে তার বাসায় সব কিছু করে।সবার খেয়াল রাখে। মনের ভিতর অনেক মায়া। এই গুণের কথা অনেকে জানেন না।
আপা,তোমাকে নিয়ে লেখার মত কোন যোগ্যতা বা সাহস আমার নেই।আজ তোমার জন্মদিন।
তাই লোভ সামলাতে পারলাম না। তুমি অনেক ভালো থেকো,সুস্থ সুন্দর থেকো। আর এমন করে আমাকে ভালোবেসো।অনন্ত শুভ কামনা আর ভালোবাসা।
তোমাকে অনেক দিন বাঁচতে হবে এই পৃথিবীতে অভিভাবক হয়ে।চারিদিকে অনেক এক অস্থির সময়!!
আবারো শুভ জন্মদিন।
“সদা থাকো আনন্দে,
সংশয়ে,নির্ভয়ে..”
যা আমাদের সব সময় বলা হয়না,তা বার বার বলতে চাই,লিখতে চাই,
সুবর্ণা আপা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।সম্মান করি।
তোমার কাজের ৫২ বছরের জন্য আবারো শুভ কামনা আর অভিনন্দন..
আদর…….”
Share.

Leave A Reply