fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৮ই ডিসেম্বর ২০২২ | ২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

ইয়াসের প্রভাবে ১১ জেলা প্লাবিত, ৯১ কি.মি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব কেটে গেলেও এর ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব দেখা গেছে উপকূলের অঞ্চলগুলোতে। জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় তা বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে তলিয়ে কয়েকশ গ্রাম তলিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মাছ ও চিংড়ির ঘের। আর টানা তিন দিন ধরে উপকূলীয় এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশে তেমন বড় আকারে আঘাত না হানলেও দক্ষিণ উপকূল ও উপকূল-সংলগ্ন ৯টি জেলায় এর প্রভাব দেখা গেছে।

বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রামের কক্সবাজার ও নোয়াখালীর অনেক অঞ্চলে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে চার জেলায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। আর সাত জেলায় প্রায় ৯১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৬৮২টি গ্রাম ও ৫০টি চরাঞ্চল।

এই ১১ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), মৎস্য বিভাগ, কৃষি কার্যালয়, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ইয়াসের প্রভাবে গত বুধবার জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে ও গাছের ডাল পড়ে আটজন মারা যান। আর পটুয়াখালীর দুমকি ও কলাপাড়ায় বৃহস্পতিবার মারা যান তিনজন।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী, উজিরপুর ও সদরের অন্তত ১২০টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ইয়াসের প্রভাবে এখানে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৬২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর শূন্য দশমিক ২২০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গেছে এবং ৩ দশমিক ৬৬৯ কিলোমিটার বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৭২৮টি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

বরিশাল পাউবো আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরদার বলেন, এটা প্রাথমিক হিসাব। পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে আরও কয়েক দিন লাগবে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

পিরোজপুরে ৩৭টি ইউনিয়নের ১০০টি গ্রামে জোয়ারের পানি এখনও আছে।জোয়ারের পানি ঢুকে ২ হাজার ১৫৭টি পুকুর ও ঘের তলিয়ে গেছে। আর ভেঙে গেছে ৭৮০ মিটার বাঁধ, আর ক্ষতি হয়েছে ৬ কিলোমিটার বাঁধের।

পটুয়াখালীতে ২২৩টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গেছে আর ৪১ কিলোমিটার বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

ঝালকাঠির ৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ২ হাজার ১৩৯টি পুকুর ও খামারের মাছ।

বরগুনা জেলায় ১ হাজার ২৪৯টি মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ৬০ মেট্রিক টন মাছ। ১ হাজার ২৬৩ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

বাগেরহাটের প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন ফসলের ১৬৫ হেক্টর জমি ও প্রায় ৩ হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামীণ বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

ভোলায় ৩৩টি ইউনিয়নের ৫০টি চরাঞ্চল, বাঁধের বাইরের লক্ষাধিক মানুষ প্লাবিত হয়েছে।

খুলনার চার উপজেলার ৩৭টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এই এলাকার সাড়ে ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে পুনর্বাসন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও বাঁধ সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরার ১২টি ইউনিয়নের ২১টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এখানকার ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর চিংড়ি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২১টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। আর ২০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে ১২১টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বৃষ্টিতে ২ হাজার ১০০ টন লবণ ভেসে গেছে। ১২০টির বেশি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এদিকে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে ১১টি অংশে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

আর নোয়াখালীতে ১১টি পয়েন্টে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনটি ইউনিয়নে কিছু বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement
Share.

Leave A Reply