fbpx

একাদশে নাইমের ফেরার আভাস; সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না ডমিঙ্গো

Pinterest LinkedIn Tumblr +

‘বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে’ টানা ১৬ ম্যাচ ধরে যাকে খেলানো হলো, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হলো, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই নাইম শেখই ছিলেন না বাংলাদেশের একাদশে। লিটন দাসের সাথে ওপেন করতে নেমেছিলেন সৌম্য সরকার। এই পরিবর্তন নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। একদল বলছেন, নাইম থাকলে সৌম্যর চেয়ে খারাপ তো আর করতেন না, আরেকদল নাইমের শুরুতে ধীরগতিতে খেলার ধরণের জন্য তাকে একাদশে না রাখায় সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। (উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ‘টি-টোয়েন্টি’ প্রস্তুতি ম্যাচটিতেই ১৯ বল খেলে ১১ রান করেছিলেন নাইম)

তবে ভক্ত সমর্থকদের চেয়ে দলীয় সমন্বয় ও দলের পরিকল্পনার কথা অবশ্যই ভালো বোঝেন টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই টিম ম্যানেজমেন্টের যিনি ‘মাথা’, সেই রাসেল ডমিঙ্গো সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়ে গেলেন, ওমানের বিপক্ষে নাইম শেখের একাদশে ফেরার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বললেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সৌম্যকে একাদশে খেলানো হয়েছিল ‘নাইমের চেয়ে ভালো’ বা ‘নাইমের বিকল্প’ ওপেনার হিসেবে নয়, বরং টিম কম্বিনেশনে বিশেষ একটি পরিস্থিতির দাবি মেটাতে।

“সৌম্যকে খেলানো হয়েছিলো মাহমুদউল্লাহ তাঁর পিঠের ব্যথার জন্য বোলিং করতে পারছিলেন না। একটা ষষ্ঠ বোলিং অপশন যাতে থাকে সেজন্যই সৌম্যকে একাদশে রাখা হয়েছিলো। তবে রিয়াদ এখন বোলিং করার জন্য শতভাগ ফিট। কাজেই এই ম্যাচে আমরা নাইমকে ফিরিয়ে আনতে পারব”- সংবাদ সম্মেলনে জানালেন রাসেল ডমিঙ্গো।

নাইম সংক্রান্ত প্রশ্নের আগে একাদশে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হয় কোচকে যেখানে কোচ দিয়েছেন পরিবর্তনের আভাস। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই ক্রিজে একজন ডানহাতি ও একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের কম্বিনেশন দেখতে পছন্দ করি। সেটি মাথায় রেখেই হয়তো আমরা ওমানের বিপক্ষে পরিবর্তন আনব। খুব বড় কিছু হয়তো হবে না কিন্তু পরিবর্তন হবে।”

একদম শেষের দিকে একাদশে কয়টি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে এই প্রশ্নও করা হয়েছিল কোচকে। সেই প্রশ্নের জবাবে ‘একটি’ নিশ্চিত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি, যদিও সেই পরিবর্তিত খেলোয়াড় কে হবেন সেটি খোলাসা করেননি, কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে চার মেলালে সেটি যে নাইমই হতে যাচ্ছেন তা আন্দাজ করা কঠিন কিছু নয়।

যদিও সোমবার মাসকাটে গণমাধ্যমের সামনে নিজের হতাশা ঝাড়ার সময় ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন নয়, বরং ব্যাটিং অর্ডারটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানোর কথা বলেছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তাঁর যুক্তি ছিল নিচের দিকে যে ব্যাটসম্যানরা খেলেন, তাঁরা যদি পাওয়ারপ্লে বা প্রথম ১০ ওভার ভালো কাজে লাগাতে পারেন, পাল্টা আক্রমণ করতে পারেন, তো কেন তাঁদের শেষের জন্য বাঁচিয়ে রাখা হবে? কেন সিনিয়র খেলোয়াড়েরা সর্বদা উপরেই খেলবেন? কেন ব্যাটিং অর্ডারে ‘শাফল’ করা যাবে না? পাপনের মূল ক্ষোভটা যে ছিল সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ তিন ‘সিনিয়রের’ শ্লথগতির ব্যাটিংয়ের দিকেই তা তো বলাই বাহুল্য।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন

তবে পাপনের যুক্তির সাথে আর কেউ একমত হোন না হোন, ডমিঙ্গো যে একমত নন, স্মিতহাসির সাথে তা জানাতে কার্পণ্য করেননি কোচ।
“সবারই নিজ নিজ মতামত রাখার অধিকার আছে। তবে এই মুহুর্তে আমি আমার দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতে একদমই আগ্রহী নই। বাইরে কে কি বলছেন তা শোনা আমার কাজ নয়। আমি আমার দলের প্রতি, নিজের খেলোয়াড়দের শতভাগ সমর্থন দিচ্ছি এবং তাদের ওপরই আগামী দুটি ম্যাচ জয়ের জন্য নির্ভর করছি।”

“সাকিব রিয়াদ বা মুশফিককে এক ম্যাচের ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করার কোন কারণই আমার কাছে নেই। তারা প্রত্যেকেই বহুবহুবার নিজেদের প্রমাণ করেছে, দুলকে জিতিয়েছে। রিয়াদ কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ম্যাচ জেতালো। আমি জানি তাদের রান পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র”- যোগ করেছেন ডমিঙ্গো।

Share.

Leave A Reply