fbpx

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘে অনুমোদন

Pinterest LinkedIn Tumblr +

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উত্তরণের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় গতকাল ২৪ নভেম্বর (বুধবার) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ এক ‘ঐতিহাসিক অর্জন’। ও অর্জনকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার এক মহান মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির পিতা, মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি একই সুপারিশ পেয়েছে নেপাল ও লাওস। বলা হয়েছে এই তিন দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর প্রস্তুতির সময় পাবে। এবারে করোনা মহামারির কারণে  অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঁচ বছর সময় দেয়া হয়েছে। সাধারণত তিন বছর সময় দেয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের যে অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নযাত্রা, এটি তারই একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই সাফল্যের অংশীদার এ দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ।’

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর বাংলাদেশের এই অর্জন বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং আরও অধিকতর উন্নয়নের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ বা গ্রাজুয়েশনের মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করেছিল। সিডিপি একইসঙ্গে বাংলাদেশকে ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরব্যাপী প্রস্তুতিকালীন সময় প্রদানের সুপারিশ করেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ইতোমধ্যে সিডিপির সুপারিশ অনুমোদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, পাঁচ বছর প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।

Share.

Leave A Reply