fbpx

কেনো পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল ডা. সাঈদা?

Pinterest LinkedIn Tumblr +

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে দেখা গেছে, সাদা এ্যাপ্রোন পরিহিত এক ডাক্তারের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও কয়েকজন পুলিশের বেশ তর্ক বিতর্ক হচ্ছে। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটি ধারণ করেন জীবন আহমেদ নামের একজন সংবাদকর্মী। যেখানে ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, ডাক্তার কিছুটা তপ্ত মেজাজে পুলিশ আর ম্যাজিস্ট্রেটকে বলছেন – “আমি আইডি কার্ড নিয়ে আসি নাই”।

পুলিশ তখন পাল্টা প্রশ্ন করে,’আপনার মুভমেন্ট পাস আছে?’

ডাক্তার তখন গাড়ির স্টিকার দেখিয়ে বললেন ‘এই যে মুভমেন্ট পাস।‘

তখন সাদা শার্ট পরিহিত ব্যক্তি বলেন,’ আমিতো ওটা দেখতে চাচ্ছি না। আপনার মুভমেন্ট পাস আছে কি না। আপনার আইডি কই?’

এর প্রতি উত্তরে ডাক্তার বলেন, ‘ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস? কতজন ডাক্তারের প্রাণ গেছে করোনায়?’

সেই ডাক্তার রাগান্বিত স্বরে আরও বলেন, তিনি বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে সাঈদা শওকত। এক পর্যায়ে তিনি পুলিশ এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলে তারাও ক্ষিপ্ত হন।

তিনি উত্তেজিতভাবে বলতে থাকেন ‘ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে’।

‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে তুইও পুলিশ’ এমন মন্তব্য আসলে পুলিশের পক্ষ থেকেও একজন বলে ওঠেন তার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা।

‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’- সেই প্রশ্ন তুলে দেখে নেওয়ারও হুমকি অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি ।

সাংবাদিক জীবন আহমেদের কাছ থেকে জানা যায় ঘটনা প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, ওই চেকপোস্টেই ডা: সাঈদা শওকতের প্রাইভেট কারটি আটকায় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট। পুলিশ তার মুভমেন্ট পাস বা আইডি কার্ড দেখতে চান। তিনি ডাক্তার কী না, তা জানতে আইডি কার্ড দেখতে চান পুলিশ।

এ  সময় ডা: সাঈদা শওকত  উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পুলিশ বলছিল, ‘আমিতো আইডি কার্ড দেখতে চাচ্ছি, আমিতো অপরাধ করছি না। আপনি খারাপ ব্যবহার করছেন কেন? এখানেতো অনেকেই অনেক পরিচয় দিয়ে বের হচ্ছে। এজন্যতো আপনি এরকম ব্যবহার করতে পারেন না।’

এক পর্যায়ে ওই ডাক্তার একজন মন্ত্রীকেও কল করার চেষ্টা করেন।

এই ঘটনার পর ফেসবুকে ডাক্তারদের গ্রুপ ‘বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন’ এ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ডা. সাঈদা।

কেনো পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল ডা. সাঈদা?

সেখানে তিনি লিখেছেন, তার গাড়িতে বিএসএমইউ-র পারমিশনের কাগজ, তার গায়ে প্রতিষ্ঠানের নাম সহ এ্যাপ্রন থাকার পরও পুলিশ ঝামেলা করেছে। তিনি একে ‘ডাক্তার জাতি’কে অপমানের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি লিখেছেন, পুলিশ তাকে থানায় নেয়ার হুমকি পর্যন্ত দেয়। তিনিও তাই পুলিশকে কথা শোনাতে ছাড়েন নাই।

এই পোস্ট শেয়ার করে ডা: সাঈদাকে স্যালুট জানিয়ে তার পক্ষ নিয়েছেন অনেক ডাক্তার।

অনেকেই বলছেন, লকডাউন শুরুর পর থেকে ফেসবুকে অনেক ডাক্তার চেকপোস্টে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। অনেকে আবার বলছেন, পুলিশের হয়রানি নিয়ে অনেকদিনের জমানো ক্ষোভ থেকেই হয়তো ডা. সাঈদা এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়, লকডাউনে যাতায়াতের সময় আইডি কার্ড দেখতে চাওয়াটা রুটিন ওয়ার্কের অংশ। এটা যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব আর চলমান বিধিনিষিধের প্রেক্ষিতে পুলিশ এমনটা করছে।

Share.

Leave A Reply