fbpx

‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত’

Pinterest LinkedIn Tumblr +

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সার্বজনীন ভ্যাকসিন কাভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সাহায্য করা।

যেসব দেশ করোনাভাইরাসের টিকা তৈরি করে না, তাদেরকে সাহায্য করার জন্য উৎপাদক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকালে ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’র (বিএএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্বে ধারণকৃত ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের চাহিদা মেটানোর জন্য জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সকল দেশের একসাথে কাজ করা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকার, সাম্য এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারী আমাদেরকে ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমরা সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব অনেক বেশি এবং এই প্রভাব এখনও বাড়ছে। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জানান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যা দেশে জিডিপির চার দশমিক চার শতাংশ।

কেউ যেন পেছনে না থাকে, এমনকি মহামারী সংকটেও যেন কেউ পেছনে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক গভর্নেন্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্যে বিশ্বাস করে।’

সরকার প্রধান তাঁর বক্তব্যে সংকটময় এই সময় কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে উন্নয়শীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সাহায্য-সহায়তা প্রয়োজন’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি-মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মহাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসাথে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় প্রযুক্তি সহযোগিতা বিনিময় সম্পর্কে বলেন, ‘একে অপরের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এক্ষেত্রে, একে অপরের সাথে সুবিধাগুলো বিনিময়ের পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারি।’

এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি, আইএমএফের সভাপতি, বোয়া ফোরামের মহাসচিবকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Share.

Leave A Reply