fbpx

খেলাপি ঋণের ভারে নাজুক দেশের নয় ব্যাংক 

Pinterest LinkedIn Tumblr +

দিন দিন দেশে ঋণ খেলাপিদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। একইসঙ্গে এই ঋণ খেলাপির পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এই অর্থের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকারও বেশি।

শুধু তাই নয়, ঋণ নেওয়ার পর সেটি সময়মতো পরিশোধ না করায় একের পর এক ঋণ খেলাপি হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আর এর ভার বইতে বইতে অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে নয় ব্যাংকের ৩০ শতাংশ থেকে প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ আছে। এর মধ্যে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের অবস্থা খুবই নাজুক। তাদের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দেশি ব্যাংকের মধ্যে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ), বেসিক ব্যাংক (৫১ দশমিক ৭৩ শতাংশ), জনতা ব্যাংক (২৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ), সোনালী ব্যাংক (২০ দশমিক ৯১ শতাংশ), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক (৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক (৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ), পদ্মা ব্যাংক (৬৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (৩০ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান (৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ঋণ খেলাপি হয়েছে।

তারা আরও বলছে, বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এটি বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

মূলত সরকার গেল বছরের নভেম্বরে ঋণ খেলাপিদের মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে এবং ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুযোগ দেয়। এর আওতায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নবায়ন করা হয়। যার সিংহভাগ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

এর আগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। আর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, হালনাগাদ প্রতিবেদন মতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে তিন মাসে মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা কমেছে। এ কমাটা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। কিছু সময় গেলে বোঝা যাবে অবস্থা আসলে কেমন। তবে কমে আসাটা ইতিবাচক।

শুধু তাই নয়, এই খাত টিকিয়ে রাখতে খেলাপিদের আরও কঠিন বার্তা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর।

Share.

Leave A Reply