fbpx

ঘরের বাঘ ফিরে এলো ঘরেই

Pinterest LinkedIn Tumblr +

এ যেন রূপকথার গল্পের মতো। গন্তব্যে ফিরতে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দেওয়া যেনো কিছুই না তার কাছে। তবে এই গল্প মানুষের নয়, একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের।

প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ, তিনটি দ্বীপ, একাধিক নদী, বড় বড় জঙ্গল পার হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে ফিরে এসেছে এই বাঘ। আর এর জন্য সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগের কর্মীরা ওই বাঘের গতিবধির ওপর নজর রাখতে গলায় একটি রেডিও কলার পরিয়ে দিয়েছিলেন।

ভারতের বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তারা ভারতীয় সুন্দরবনের বশিরহাট এলাকায় বাঘটিকে ধরে। একটি ফাঁদের মধ্যে ছাগল বেঁধে বাঘটিকে আটকে ফেলে। তারপর চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে বাঘটিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগের সুন্দরবন কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাঘটির গলায় কলার রেডিও পরানো হয়। এরপর বাঘটির সবশেষ অবস্থান ছিল বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সবশেষ ২০১৭ সালের বাঘশুমারির সময় তোলা ছবির সঙ্গে ভারত থেকে ফিরে আসা বাঘটির ছবির মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ছবির একটি বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগের সঙ্গে ভারতফেরত বাঘটির মিল পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বন বিভাগের খুলনায় অবস্থিত পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগীয় কার্যালয়ে থাকা বাঘবিষয়ক গবেষণাগারে যাচাই-বাছাই চলছে।

ভারতের বন বিভাগের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্য প্রাণী) বিনোদ যাদব গত সোমবার ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, বর্তমান ও আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাঘটি যে ভারতের সুন্দরবনের নয়, সেটা তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হরিণভাঙ্গা থেকে বাসিরহাট রেঞ্জের অন্তর্গত হরিখালী শিবিরের সামনের দিকে বাঘটিকে ধরা হয়েছিল এবং গত ২৭ ডিসেম্বর স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন ভারতের এলাকায় ঘুরে বাঘটি তালপট্টি দ্বীপে প্রবেশ শুরু করে এবং ছোট হরিখালী, বড় হরিখালী এমনকি রায়মঙ্গলের মতো চওড়া নদীগুলো পেরিয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবনে এসে পৌঁছায়।

চলতি বছরের ১১ মে ওই বাঘটি রেডিও কলার সংকেত দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তার আগে বাঘটি হরিণভাঙ্গা, খাতুয়াঝুরি এবং বাংলাদেশের তালপট্টি দ্বীপ অতিক্রম করে। বাঘটির শেষ অবস্থান ছিল সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে।

ভারতের বন বিভাগ জানান, রেডিও কলারের গ্যাজেটে একটি মৃত্যুর সেন্সরও ছিল, যা বাঘের মৃত্যু ঘটলে সংকেত দেয়। কিন্তু কলার থেকে কোনো স্থিতিশীল সংকেতও পাওয়া যায়নি, যা বাঘ নিরাপদ রয়েছে তা নির্দেশ করে। তাই মনে হচ্ছে কলারটি বাঘের ঘাড় থেকে খুলে পড়ে গেছে। পানির লবণাক্ততার কারণে কলারের ক্ষতিও হয়ে থাকতে পারে।

Share.

Leave A Reply