fbpx

ঝুলিতে ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, সিদ্ধান্তহীনতায় নাইজেরিয়ান তরুণী

Pinterest LinkedIn Tumblr +

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কে না পড়তে চায়? তাই উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে অনেকেই বৃত্তির জন্য আদাজল খেয়ে নেমে পড়েন। নামী দামী সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে থাকেন। কপাল ভালো থাকলে একাধিক বৃত্তিও পেয়ে যান অনেকেই।

ঠিক এমনই ঘটেছে নাইজেরিয়ান এক তরুণীর সঙ্গে। ভিক্টোরি ইনকা বানজো নামের ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী বিশ্বের বিভিন্ন বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। যেখানে সে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য বৃত্তি পান। এই বৃত্তির পরিমাণ ৫০ লাখ ডলার।

তবে একসাথে এতো বৃত্তি পেয়ে এখন বিপাকে পড়েছে সে। কারণ এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্বনামধন্য বৃত্তিও রয়েছে। দ্বিধায় আছেন কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বানজোর মা চিকা ইনকা-বানজো লাগোস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। আর বাবা আদিয়াঙ্কা বানজো বেসরকারি খাতের একটি সরবরাহ চেইনের নির্বাহী প্রধান।

ভিক্টোরি ইনকা-বানজো বলেন, ‘এখন অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলাম। ধারণা ছিল, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আমি বৃত্তি পাব না।’

একাধারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগ স্কুল, ইয়েল কলেজ, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড কলেজ, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পেয়েছেন।

শুধু তাই নয়, কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেস্টার বি. পিয়ারসন স্কলারশিপ এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যারেন ম্যাককালিন আন্তর্জাতিক লিডার টোমুরো (কেমিলট) স্কলারশিপও সে লাভ করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সেরাদের বেছে নেয়। সুতরাং আমি প্রতিদিন নিজেকে স্মরণ করাই যে আমি এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুযোগ পেয়েছি- বলেন বানজো।

এই তরুণীর অর্জনও কিন্ত কম নয়। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত আন্তর্জাতিক সিআইই পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি। এছাড়া কেমব্রিজের আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব কটি বিষয়েই ‘এ’ অর্জন করেছেন।

নিজের জীবনের ইচ্ছা নিয়েও সিএনএনের সাথে কথা বলেন নাইজেরিয়ান এই তরুণী। বলেন, জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা আছে তার।

বলেন, এই স্কলারশিপ আমাকে আরও উঁচুতে দাঁড় করিয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ব, সেটা নিয়ে এখনো সন্দিহান। পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এখনো ভাবছি। বিশেষ করে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড ও জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি।

বানজোর গল্পটি অন্য নাইজেরিয়ার তরুণ–তরুণীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে জানান তাঁর মা চিকা  বানজো। মেয়ের একাডেমিক সাফল্যের জন্য বাবার নির্দেশনা ও শৃঙ্খলাকে কৃতিত্ব দেন তিনি।

এতো অর্জনের পরও বানজো এখন ব্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি–ইচ্ছুকদের পড়ানোর কাজ নিয়ে। রেডিওর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের গণিত, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়াচ্ছেন।

Share.

Leave A Reply