fbpx

ডেঙ্গুতে ৬৪ শতাংশ মৃত্যু শক সিনড্রোমে

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

মহামারীর আকার নিয়েছে ডেঙ্গু। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্য ৫৭৬। প্রধান ডেঙ্গুর প্রভাবের থেকে শক সিন্ড্রমে মৃত্যুই বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশের ডেঙ্গুর সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ৬৪ শতাংশ রোগীরই মৃত্যু হয়েছে শক সিনড্রোমে।

শক সিনড্রোমে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ছাড়াও মৃত্যুর অন্যান্য কারণের মধ্যে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে ২৩ শতাংশ, হেমোরোজিক ফিবারে ৯ শতাংশ ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোমরবিডিটি রোগী ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা সিটির বাইরে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ ঢাকার বাইরে ৭৩ শতাংশ মৃত্যুই হয়েছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। অন্যদিকে ঢাকায় শক সিনড্রোমে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ শতাংশের।

‘শক সিনড্রোম’র উপসর্গ
শক সিনড্রোমের উপসর্গ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া; ত্বক ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, ত্বকের ভেতরের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে ত্বকের ওপর লাল ছোপ সৃষ্টি হওয়া। বমি, মল কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া; নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ ও অবসাদ। কখনো মস্তিষ্কের ভেতর রক্তক্ষরণ হতে পারে। ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও এরকম শারীরিক অবনতি ঘটলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

করণীয়
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফরহাদ মনজুর বলেন, ‘ডেঙ্গুরোগীর জ্বর ১০২ ডিগ্রির নিচে থাকলে ৬ ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে। আর ১০২-এর ওপরে গেলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি দিতে হবে। বেশি বেশি ডাবের পানি, স্যালাইন ও ফলের জুস খাওয়াতে হবে। খাওয়ার রুচি না থাকলেও জোর করে খাওয়াতে হবে। রোগীকে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনও ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ, ব্যথানাশক কোনও ওষুধ খেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এমনকি রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

ডেঙ্গুতে ৬৪ শতাংশ মৃত্যু শক সিনড্রোমে

তিনি আরও বলেন, ‘‘সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু সেরে যায়। তারপরও হেমোরেজিক ফিভারের মধ্যে এক ধরনের রোগী রক্তপাত নিয়ে আসতে পারে। আরেক ধরনের রোগী সরাসরি শকে চলে যেতে পারে। হেমোরেজিক ফিভারের মধ্যে যারা শকে চলে যাচ্ছে, তাদের এক্সটেনডেট ডেঙ্গু ‘শক সিনড্রম’। যা হলো অস্থিতিশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের রোগীদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই, দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।’’

এছাড়া ডেঙ্গু মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মতে, মশার কামড়ে ডেঙ্গু বা একে অপরের থেকে করোনা সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই তাদের সন্তানদের বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। সামাজিকভাবে একে-অপরের সঙ্গে খেলাধুলা বা মিশতে পারছে না। এতে সময় কাটানোর মাধ্যম হিসাবে তাদের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যেমন: মোবাইল বা টেলিভিশনে গেম খেলা বা কার্টুন দেখার প্রতি ঝুঁকে পড়া স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে ডিভাইস আসক্তি বেড়ে যেতে পারে।

দীর্ঘ মেয়াদে এমনটা হলে বয়সভেদে তাদের বিদ্যালয়ে, কাজে, সামাজিকতায় বা বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা তৈরি হবে। এতে শিশুর শারীরিক ও মনাসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য পরিবার, সমাজে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরত্ব দেওয়া উচিত।

এছাড়া, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পরিবারের কারও মৃত্যু হয়েছে বা কেউ নিজেও আক্রান্ত হয়েছেন-এমন অনেকে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় পড়ে যাচ্ছেন। বড় বাচ্চাদের মধ্যে বিষণ্নতা কাজ করছে। বড়দের ক্ষেত্রে পোস্ট ভাইরাল ডিপ্রেশন দেখা দিচ্ছে। এজন্য তাদের নিয়মিত সময় দেওয়া, ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।

Advertisement
Share.

Leave A Reply