fbpx

দিনের বেলায় বন্ধ থাকবে ফেরি চলাচল

Pinterest LinkedIn Tumblr +

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকার সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে ঈদ উপযাপনের আহ্বান জানালেও বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-শিমুলিয়া নৌপথে। এজন্য শনিবার (৮ মে) থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

তবে জরুরি প্রয়োজনে সন্ধ্যার পর থেকে সীমিত পরিসরে কয়েকটি ফেরি চলবে। যেগুলো শুধু জরুরি প্রয়োজনে আসা যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করবে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিআইডব্লিউটিসি জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মিশা।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে ফেরিঘাটে  ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। তাই শনিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শুক্রবার রাতেই সব কয়টি ফেরি নোঙর করা করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে এমন সিদ্ধান্তই আমাদের জানানো হয়েছে। তবে রাতে কতটি ফেরি ছাড়া হবে বা অন্যান্য বিবিধ বিষয়গুলো এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে সাধারণত ১৬টি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পারপার হয়। লকডাউনের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়। শুরুর দিকে দিনের বেলায় ২ থেকে ৩টি ফেরি ছাড়া হলেও শুক্রবার থেকে যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে আসা যানবাহনের চাপ বেশি থাকা প্রায় সব কয়টি ফেরি চলাচল করে এ নৌপথে।

তবে এসব ফেরিতে জরুরি প্রয়োজনে আসা যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের কথা থাকলেও সাধারণ যাত্রীরাই বেশি পারাপার হতে দেখা যায়। এইসব মাথায় রেখে বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে শনিবার সকাল থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাত ৩টা থেকে আমরা আর কোনো ফেরি ছাড়ব না। কাল থেকে বন্ধ থাকবে ফেরি চলাচল। আপতত এর থেকে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ঈদকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া চাপ ছিল মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে। প্রতিটি ফেরিতেই ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিতে দেখা দেয়। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই যাত্রীরা পদ্মা পাড়ি দেন। আর যাত্রীদের ভিড় সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ঘাট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে একই চিত্র দেখা গেছে পাটুরিয়া-দৌলদিয়া ফেরিঘাটেও। ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট দিয়ে মানুষ ঘরে ফিরছে। ভোরবেলা থেকেই মানুষ যেভাবে পারছে, ঘাটে এসে নদী পারাপারের চেষ্টা করছে।

বর্তমানে এই নৌরুটে ২০টি ফেরি রয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীর চাপ থাকায় ৬টি ছোট ফেরির পাশাপাশি ৪টি বড় ফেরি যাত্রী পারাপারে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বেশিরভাগই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই গাদাগাদি করে ঘরে ফিরছেন যাত্রীরা।

Share.

Leave A Reply