fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৬ই ডিসেম্বর ২০২২ | ২১শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

দুবাইয়ে ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’ খেতাব পাচ্ছেন বাংলাদেশের শহীদ

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

মোশাররফ শহীদ, বয়স ৩৮। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। বর্তমানে তিনি দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির পেস্ট কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের কাজ করছেন।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই মানুষটির পরিচয় জেনে কী হবে ? আপনার মনে যদি এই প্রশ্ন জেগে থাকে, তাহলে একটু খোলাসা করেই সবটা জেনে নেই, চলুন।

মোশাররফ শহীদ নামের এই ব্যক্তি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় তিনি বিশেষ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। দুবাই সরকার তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’ খেতাব দিচ্ছে। দেশটির শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা ‘গালফ নিউজ’ ও ‘দ্যা ন্যাশনাল’ শহীদকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ত্যাগের বিনিময়ে দুবাইয়ে নাগরিক সুরক্ষায় কাজ করার জন্য শহীদের ভূমিকাকে আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ ২০০৬ সাল থেকে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির ইমার্জেন্সি পেস্ট কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে কাজ করছেন। এ দেশটিতে যখন করোনাভাইরাস হানা দিল, তখন তাকে আত্মসুরক্ষা এবং জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মিশ্রণ ও ব্যবহারের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের নবজাতক মুখও দেখতে পারেননি তিনি।

দুবাইয়ে ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’ খেতাব পাচ্ছেন বাংলাদেশের শহীদ

ছবি: সংগৃহীত

গত বছর ২৪ এপ্রিল দুবাইর জুমেইরাহ রোডে তিনি যখন ১৬ ঘণ্টার শিফটে কাজ করছিলেন, তখন বাংলাদেশে তার স্ত্রী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

দেশটির স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে শহীদ বলেন, ‘মাস্ক, গ্লাভস, ফেইস শিল্ড, প্রটেক্টিভ স্যুটে সজ্জিত হয়ে কারফিউ চলাকালে কখনও হেভি ভেহিকলে, কখনো বাইকে, কখনো ড্রোনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করার কাজ করতে হতো আমাদেরকে। এই কাজগুলো সহজ ছিল না। কিন্তু আমি দিনের পর দিন রাতের পর রাত কাজ করে যেতাম, বুঝতে পারতাম এটা কত জরুরি।’

দুবাইয়ে ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’ খেতাব পাচ্ছেন বাংলাদেশের শহীদ

ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার-পরিজন সবসময় চিন্তায় থাকতেন আমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাই কি না! নিজের পরিবার সম্পর্কে শহীদ বলেন, ‘৭ ভাই ২ বোনের বড় পরিবার আমাদের। সবাই আমার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এরপরও আমি জানি আমার দায়িত্ব কত গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে আমাদের শেষ পর্যন্ত  লড়ে যেতে হবে। আমি স্বপ্নে দেখি আমার শিশুকন্যাকে একদিন বুকে জড়িয়ে ধরবো, সে দিনটির স্বপ্নে আমার সময় কাটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্চ থেকে দুবাইকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মুক্তির টাস্ক ফোর্সে একজন ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করছিলাম। সেদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে পুরো সময় অনাগত কন্যা ও স্ত্রীর জন্য দোয়া করছিলাম। প্রায় সারাটি দিন আমার উৎকণ্ঠায় কেটেছে। রাতে ডরমেটরিতে ফিরে গিয়ে যখন জানতে পারলাম স্ত্রী ও কন্যা সুস্থ আছে, কেবল তখনই একটু স্বস্তি পেলাম।’

Advertisement
Share.

Leave A Reply