fbpx

নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন দেশটি নদীমাতৃক

Pinterest LinkedIn Tumblr +
নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন কারন দেশটি নদীমাতৃক। কিন্তু এর প্রতি সহিংষতা যেন থামছেই না। অবহেলা, দখল, দূষণ, ভুল নদীশাসন ও উজানে ভারতের পানি প্রত্যাহার এমন অনেক কিছুই হচ্ছে। অস্তিত্ব সংকটে ধুঁকছে দেশের বেশিরভাগ নদী। আর তা রোধে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে সরকার। জানা গেছে, এবার নদী দখল ও দূষণের শাস্তি কঠোর করছে সরকার। একইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ক্ষমতা।
নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন দেশটি নদীমাতৃক
নতুন ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০২০’ এর খসড়া করেছে কমিশন। খসড়া আইনে, নদী দখল ও দূষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আগে নদী রক্ষা কমিশন আইনে কোনো শাস্তি নির্ধারিত ছিল না। আর এই নির্দেশনা মানতে সংস্থাগুলো বাধ্য থাকবে এবং তাদের দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন দেশটি নদীমাতৃক
প্রতি বছর ১৪ মার্চ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস। দিনটি পালনের উদ্দেশ্য হলো, নদীর প্রতি সবার দায়বদ্ধতার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া। কিন্তু দেশে এখন নদ-নদীগুলোর যে পরিস্থিতি তাতে মনে হয় না যে নদীর প্রতি কারও কোনো দায় আছে। আর দুষণ দেখলে মনে হয় যেন নদীর শেষকৃত্য করা হচ্ছে ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই দশকে শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যের প্রসারের জন্য নদীর দখল ও দূষণ ঘটেছে ব্যাপক হারে। এ বিষয়ে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সচিব মুজিবুর রহমান হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমান আইনে কমিশনের ১৩টি কার্যাবলীর কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে নদীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ-পরিবীক্ষণ করে সুপারিশ করবো আমরা। অ্যাকশন অরিয়েন্টেড কোনো কাজ নেই আমাদের। ইতিমধ্যে উন্নয়নসহ নদী রক্ষায় কমিশন সব কাজ করতে বাধ্য বলেও আদালত আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশই চূড়ান্ত, আইনে না থাকলেও তা আইনের মতোই গণ্য করতে হবে।
নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন দেশটি নদীমাতৃক
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত দেখেছেন আমরা গত কয়েক বছরে নদী রক্ষায় যেসব সুপারিশ দিয়েছি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো তা ফেলে রেখেছে, তারা কোনো কাজ করেনি। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি নদী রক্ষা কমিশন আইনে না থাকলেও অন্যান্য আইনে নদীর দখল-দূষণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আছে। সেটা না নেয়ায় নদী দখল ও দূষণ বন্ধ হচ্ছে না। আমরা মাঠে গিয়ে তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থা সঙ্গে নিয়ে কিছু কাজ করাতে সক্ষম হয়েছি। যার মধ্যে প্রায় ৫৮ হাজার নদী দখলদার ও দূষণকারীর তালিকা প্রকাশ করেছি। ১৯ হাজারের মতো দখলদার উচ্ছেদ করেছি ।’ মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, নদীরক্ষা বিষয়ে নির্বাহী ক্ষমতা পুরোটা ব্যবহার করতে পারবে কমিশন। তিনি বলেন, নদীর দখল-দূষণ রোধে সংস্থাগুলোকে যেমন- বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদফতর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্যদের যে ক্ষমতা দেয়া আছে সেটার ব্যবহার তারা করুক। যদি সেটা তারা না করে তবে তাদের জবাবদিহি করতে হবে কমিশনের কাছে। তাদের যুক্তি গ্রহণযোগ্য না হলে তখন আমরা আমাদের ক্ষমতা ব্যবহার করব। কারণ নদীকে তো রক্ষা করতেই হবে ।
নদী বাঁচাতে মরিয়া কমিশন দেশটি নদীমাতৃক
আমরা অভিযুক্তেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করব। নদী রক্ষায় কমিশনকে সংস্থাগুলো যেকোনো সহযোগিতা দিতে বাধ্য থাকবে। এসব বিষয়ই আইনের খসড়ায় থাকছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন কমিশন আইনে ওই আইনগুলোর শাস্তির বিষয়গুলো উল্লেখ করা থাকবে। একইসঙ্গে নদী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। আইনের প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ব্যর্থ হলে জবাবদিহি করতে হবে কমিশনের কাছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এমনকি ক্রিমিন্যাল অ্যাকশনও নেয়া যাবে। কমিশন এই ব্যবস্থা নিতে পারবে।’ খসড়া আইনটিতে ১৪টি অধ্যায়ে রয়েছে ১০৮টি ধারা । এছাড়া শাস্তি সংক্রান্ত তিনটি তফসিল রয়েছে। বর্তমান আইনে চারটি অধ্যায়ে ২১টি ধারাও রয়েছে। নতুন আইনটি এ মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে খসড়ার বিষয়ে সবার মতামত নেয়া হচ্ছে বলে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান।
Share.

Leave A Reply