fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৩০শে নভেম্বর ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

নিউ ইয়র্কে বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্মের প্রদর্শনী চলছে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে।

৭৪ স্ট্রিটের টিডি ব্যাংক-এর উল্টোপাশে আইএসপি-র দোতলায় প্রিমাভেরা-গ্যালারি অব বিডি আর্টে ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন থেকে চলছে বিপাশা হায়াতের আঁকা চব্বিশটি চিত্রকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিপাশা হায়াতের পেইন্টিং দেখতে হলে আগে থেকে রিজার্ভেশন নিয়ে আসা ভালো। তাহলে সোসাল ডিস্টেনসিং বজায়ে রাখা যায়। রিজাভেশনের ফোন: ৬৩১-৮০৫-১০৫১।

এই প্রদর্শনী নিয়ে বিপাশা হায়াতের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শামীম শাহেদ। তাদের কথামালা তুলে ধরা হলো বিবিএস বাংলার পাঠকদের জন্য।

নিউ ইয়র্কে বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

বিপাশা হায়াতের সঙ্গে শামীম শাহেদ। ছবি : ফেসবুক

আপনার চিত্রকর্ম জ্যাকসন হাইটসে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের এত কাছাকাছি। আপনার কী মনে হচ্ছে?

প্রথমত আমি খুবই এক্সাইটেড যে জ্যাকসন হাইটসে একটা গ্যালারি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশি আর্টিস্টদের চিত্রকর্ম জায়গা পাবে। জ্যাকসন হাইটস বাঙালিদের প্রাণ কেন্দ্র। এরকম জায়গাতেই একটা আর্ট গ্যালারি খুব দরকার ছিল। তাই প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। দর্শকের সঙ্গে আর্টিস্টের যে কথোপকথন সেটা এখন আরও অর্থবহ হবে।

আপনার এই কাজগুলোর বৈশিষ্ট কী?

আমার এই সিরিজের নাম রাখা হয়েছে ‘ইনসাইডার’। আমি বলব এটা প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির নির্দশন। আমার ভাবনার সাথেও নামটা মিলে গেছে। আমি আসলে ছবি আঁকি না, ছবি প্রকাশ করি। আমি ছবির মাধ্যমে আমার ভেতরের ভাবনাগুলো দৃশ্যমান করার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, আমরা যখন কথা বলি তারচেয়ে বেশি কথা বলি যখন কিছু বলি না। আমার কাছের মানুষেরা জানেন, আমি যখন ছবি আঁকি তখন আমাকে চোখ বন্ধ করে ভাবতে হয়। ওই মুহূর্তে আমার ভেতরে যে ভাবনা চলে সেটাকেই আমি ক্যানভাসে আনার চেষ্টা করি। তাই এবারের ছবিগুলোতে যেমন রঙ পাওয়া যাবে তেমন বৈরি সময়ের সঙ্গে যুদ্ধটাও পাওয়া যাবে।
কিছু ছবি আছে যেখানে আমি এই পৃথিবীর প্রাচীনতম মানুষগুলোর ভাষা আবিষ্কারের চেষ্টা করেছি। কারণ আমি মনে করি, সভ্যতার যাত্রায় প্রাচীনতম যে মানুষগুলো ছিল তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য নাই। তাই তাদের ভাষাগুলো বুঝতে চাই তাদেরকে বোঝার জন্য। পাশাপাশি আমাদের ভাষাগুলো আবিষ্কার করতে চাই আমাদের নিজেদেরকে বোঝার জন্য।

আপনার চিত্রকর্ম দেখতে এলে আপনার সাথে কি দেখা হবে?
হ্যাঁ, অবশ্যই দেখা হবে। দুই ভাবে এই সাক্ষাৎ হতে পারে। এক, চিত্রকর্মের মাধ্যমে। ভাবনার আদান প্রদানের মাধ্যমে। দুই, সরাসরিও দেখা হতে পারে।

আপনার এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এখন আমার তিনটা কাজ-নাটক লিখা, ছবি আঁকা এবং পড়ালেখা করা। রোমান এম্পায়ারের আগে পড়ে সে সভ্যতার উত্থান পতন তার সাথে ধর্মের যে প্রভাব এবং সংমিশ্রন সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করছি। এখান থেকে নিজেকে এবং নিজের কাজগুলোকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।

সামনের পরিকল্পনা কী?
এখন তো আসালে বেশির ভাগ পরিকল্পনাই থাকে বাচ্চাদের কেন্দ্র করে। এনসিয়ান্ট সোসাইটির গতি প্রকৃতি কী করে আমার কাজে আনতে পারি সেটা নিয়ে গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনি চিন্তা করলে দেখবেন, যেকোনো সভ্যতার উত্থানের পেছনে কিন্তু আরেকটি সভ্যতার পতনের ধারাবাহিকতা থাকে। এটা যে কত বেদনার এবং যন্ত্রণার সেটা এর মধ্যে পুরোপুরি ডুবে না গেলে বোঝা যায় না। আমি মনে করি প্রত্যেকেরই সেটা জানা খুব জরুরি। সামনের সময়টাতে এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।
সবশেষে সবাইকে বলব, ‘প্রিমাভেরা’ নিউইয়র্কে একটি নতুন গ্যালারি। চলুন আমরা সবাই ছবি দেখতে যাই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে চিত্রকর্মে আগ্রহী করে তুলি। তাহলে তাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হবে।

নিউ ইয়র্কে বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

বিপাশা হায়াতের একটি চিত্রকর্ম। ছবি : ফেসবুক

উল্লেখ্য, এর আগে বিপাশা হায়াতের একক চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল ম্যানহাটানের নিউইয়র্ক ডিজাইন সেন্টারের ট্রান্সফরম গ্যালারিতে। মে ২০১৯ থেকে মে ২০২০ পর্যন্ত। বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্ম প্রদর্শনের পর শিগগিরই প্রিমাভেরায় আসছে ‘আইরিসিস’ এর পোশাক প্রদর্শনী।

Advertisement
Share.

Leave A Reply