fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৬ই ডিসেম্বর ২০২২ | ২১শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার লড়াই

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

পাদেসর যাদব। উত্তর প্রদেশের ৭০ বছর বয়সী এই বাসিন্দার লড়াইটা একেবারেই অন্যরকম। তাকে লড়তে হচ্ছে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার জন্য।

ভারতে এমন অনেকই রয়েছেন যাদের সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। আসলে তারা জীবিত।
নথিতে ভুল তথ্য ওঠার পেছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কারণ মৃত ব্যক্তি মানেই তার সম্পত্তির মালিকানা আর তার নয়। সেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার জন্যই নিবন্ধনে ভুল তথ্য দেয়া হয়। সাধারণত উত্তরাধীকার সূত্রে সম্পত্তির পরবর্তী মালিকানা দাবির জন্যই এমনটা করা হয়।

যাদব প্রথম যখন জানতে পারেন কাগজে কলমে তিনি মৃত, চমকে উঠেছিলেন।

তারা মেয়ে ও মেয়ে জামাই মারা যাওয়ার পর দুই নাতনির ভরণ-পোষণের ভার পড়ে যাদবের কাঁধে। তাদের প্রয়োজনেই কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাস পড়ে একটি ফোনে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘যার কাছে জমি বিক্রি করেছিলাম তিনি ফোন দিয়ে বললেন, আমার বিরুদ্ধে নাকি একটা মামলা আছে। আমার ভাতিজা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে যে জমির মালিক মারা গেছেন। এবং এক ব্যক্তি ছদ্মবেশে মালিক সেজে জমি বিক্রি করেছেন।’

যাদব তখন থাকতেন কলকাতায়। ফোন পেয়েই তিনি উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলায় চলে যান। যখন তিনি গ্রামে গেলেন তখন তাকে দেখে সবার চোখই ছানাবড়া।

বলেন ‘মনে হচ্ছিল সবাই ভূত দেখছেন। তারা বলছিল, তুমি মরে গেছো, তোমার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত হয়ে গেছে।’
তিনি জানান, তার ভাতিজা শহরে এলে প্রায় তার বাড়িতে যেত। কিন্তু যখন সে জানলো যে কাকা একটা জমি বিক্রি করতে চান, তখন থেকেই সেখানে যাওয়া বন্ধ করে দিল।

যাদব বুঝলেন যে উত্তরাধীকারী সূত্রে ভাতিজা তার জমির মালিক হতে চাইছে। এরপর সে ভাতিজার সামনে গেল।
ভাতিজা কাকাকে দেখেই বললেন –‘আমি কখনও এই ব্যক্তিকে দেখিনি। আমার কাকা মরে গেছেন।’

যাদব তাকে বললেন ‘কিভাবে আমি মরে গেছি। আমি তো তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।’

শুরুতে কয়েকদিন খুব ভেঙে পড়েছিলেন যাদব। এরপর অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য লিভিং ডেড অব ইন্ডিয়া নামের একটি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করলেন। এখন এই সংগঠনটি তার জন্য কাজ করছে।

এই সংগঠনটি কাগজে ‘মৃত’ কিন্তু জীবিত মানুষদের সম্পত্তি ফেরত নিয়ে কাজ করে থাকে। এটি আবার চালান ৬০ বছর বয়সী লালবিহারী মৃতাক। জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় তিনিও ‘মৃত’ হিসেবেই কাটিয়েছেন।

লালবিহারী খুবই গরিব ছিলেন। পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি। কারণ জীবনের তাগিদে ছোট বেলাতে তাকে শাড়ির কারখানায় কাজ করতে হয়েছিল।

২০ বছর বয়সে তিনি উত্তরাধীকার সূত্রে বাবার থেকে পাওয়া জমি বিক্রি করতে গিয়ে দেখলেন নথিতে তাকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো রয়েছে। তিনি যে জীবিত এটা তাকে প্রমাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর।

তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছেন এই রকম সমস্যায় ভুগছেন ভারতের আরও অনেক মানুষ। তাদের সাহায্যের জন্যেই তিনি একটি সংগঠন তৈরি করেন।

অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য লিভিং ডেড অব ইন্ডিয়ার হিসেব বলছে শুধু উত্তর প্রদেশেই জীবিত ‘মৃত’ মানুষের সংখ্যা রয়েছে ৪০ হাজারের বেশি। যাদের বেশির ভাগই খুব গরিব, নিরক্ষর ও নিচু জাতের। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধেই তাদের আন্দোলন শুরু হয়।

Advertisement
Share.

Leave A Reply