fbpx

পাঁচ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৭০০ মানুষ নিখোঁজ

Pinterest LinkedIn Tumblr +

হরহামেশাই হচ্ছে নৌ দুর্ঘটনা। গত ১৬ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৯৪২ জন যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ পাঁচ বছরেই নিখোঁজ হয়েছেন ৬৯২ জন। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্য উঠে এসেছে এমনটা।

তাদের তথ্য বলছে,  সবচেয়ে বেশিসংখ্যক যাত্রী নিখোঁজের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালে। ওই বছর ১৫১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৪৪ জন নিখোঁজ হন। এর বাইরে ২০১৬ সালে ১৫ জন, ২০১৮ সালে ১১৮ জন, ২০২০ সালে ২৩৭ জন এবং চলতি বছরের ৩ মে পর্যন্ত দেশে ১৪টি দুর্ঘটনায় ৭৮ জন যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। আর গত পাঁচ বছরে সারা দেশে নৌ-দুর্ঘটনা হয়েছে ৩৬১টি। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৪২ জনের। আহত হয়েছেন ৩১৬ জন।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব জানান, নৌ-দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মাত্র ১০ শতাংশের খোঁজ পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়। বাকি ৯০ শতাংশ নিখোঁজ ব্যক্তি আর কখনো ফিরে আসেন না।

২০০৪ সালে ১ মে কয়েকশ’ যাত্রী নিয়ে ডাকাতিয়া নদীতেডুবে যায় এমভি দিগন্ত নামের লঞ্চটি। কয়েকদিন পরে লঞ্চটি শনাক্ত করা গেলেও ওই লঞ্চে থাকা শতাধিক যাত্রীর খোঁজ মিলেনি আজও।

এর আগে ২০০৩ সালে চাঁদপুরে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ডুবে যায় এমভি নাসরীন-১নামের লঞ্চটি। বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী লঞ্চটি থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল ৮০০-এর বেশি। যা কিনা ইতিহাসের ভয়াবহতম নৌ-দুর্ঘটনায় ছিল এটি। ওই দুর্ঘটনায়ও নিখোঁজ হন অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী। যাদের আজও কোন খোজ পাননি তাদের পরিবার।

তবে এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশে এ যাবৎ যতগুলো বড় ঘটেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেসব দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রীর খোঁজ আর কখনই পাওয়া যায়নি।

নৌযান দুর্ঘটনার পর যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার জন্য মোটা দাগে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান,  প্রথমত নৌযান দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রী সাঁতরে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তাদের অনেকেই হয়তো জীবন বাঁচাতে সফল হন না। এক্ষেত্রে যাদের মৃত্যু হয় তাদের লাশ দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের লাশ স্রোতের টানে দ্রুত অনেক দূর ভেসে যায়। এ কারণে তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না।

দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশে নৌ-দুর্ঘটনার পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম দুর্ঘটনাস্থল ঘিরেই পরিচালনা করা হয়। যেসব লাশ এ সীমানার বাইরে চলে যায়, সেগুলো বলতে গেলে নিখোঁজই থাকে।

তৃতীয়ত, নৌপথে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম কেবল একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দুর্ঘটনার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শেষ করে দেয়া হয় ।

এছাড়া নৌ-দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করার কারণেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।

Share.

Leave A Reply