fbpx

পালিত হলো বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। এ এক মরণব্যাধি। দেহে বাসা বাধলে ধুঁকে মৃত্যু অনিবার্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসেবে বিশ্বে প্রতিবছর ৮২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে।

‘আই এম অ্যান্ড আই উইল’ অর্থাৎ আমি আছি এবং আমি থাকব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। ২০০৮ সালে প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অ্যাগেইনেস্ট ক্যান্সার কন্ট্রোল’ (ইউআইসিসি)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(ডব্লিউএইচও) ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার রোগীদের জীবনধারার মান উন্নয়নে ইউআইসিসি সহায়তা করে থাকে।

গ্লোবোক্যানের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ১ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৭ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জনের। মৃতদের মথ্যে ফুসফুস ক্যান্সারে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়। যা মোট মৃত্যুর ১৮ দশমিক ৪ ভাগ। কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৯২ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৯ দশমিক ২ ভাগ। আর স্টোমাক ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৫ জন। যা মোট মৃত্যুর ৮ দশমিক ২ ভাগ। লিভার ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৬৩১ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৮ দশমিক ২ ভাগ। ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৯ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৬ দশমিক ৬ ভাগ। খাদ্যনালীর ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৫৮৫ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৫ দশমিক ৩ ভাগ। প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ২৪২ জনের। যা মোট মৃত্যুর ৪ দশমিক ৫ ভাগ এবং অন্য ক্যান্সারে ৩৪ লাখ ২২ হাজার ৪১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ৮ ভাগ। কেন একে মরণব্যাধি বলা হয় নিশ্চয়ই উল্লেখিত পরিসংখ্যানে তা স্পষ্ট।

নারীদের বেলায় যে তিন ধরনের ক্যান্সারের কথা বেশি শোনা যায়, সেগুলো হল- জরায়ুর মুখে ক্যান্সার বা সার্ভিক্যাল ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বা ওভারিয়ান ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার।

বাংলাদেশের নারীরা জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের কারণে বেশি মারা যাচ্ছে। অথচ উন্নত বিশ্বে এটি শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কারণ এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোগযোগ্য। পূর্ব লক্ষণ যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশেও বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে এবং ‘ভিআইএ’ নামে সহজ একটি পরীক্ষা জাতীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে। প্রতি বছর দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং দেড় লাখ মানুষ মারা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, সচেতনতা, শিক্ষার অভাব এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকে বাংলাদেশে ক্যান্সার ও এ রোগে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

এর মধ্যে শোভাযাত্রা, ক্যান্সার বিষয়ক পোস্টার ও ফেস্টুন প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, ক্যান্সার রোগীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্যতম।

সকলের সামষ্টিক উদ্যোগে এ রোগ থেকে মুক্ত হোক পৃথিবী। এ কামনাই প্রত্যাশিত এখন।

Advertisement
Share.

Leave A Reply