fbpx

ফেসবুকে আন্দোলনের ডাক দিয়েই পূজামণ্ডপে হামলা

Pinterest LinkedIn Tumblr +

শারদীয় দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনার জের ধরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক কিশোর তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে লোক জড়ো করে। ওই কিশোর ১৩ (অক্টোবর) বিকালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘোষণা দেয়, ‘সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড থেকে ‘আন্দোলন’ হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মুসলিম ভাইদের জড়ো হওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।’ এর পরেই সেখনে জড়ো হতে শুরু করে দলে দলে কিশোর–তরুণ। এক পর্যায়ে তারা মিছিল বের করে ও পূজামণ্ডপে হামলা চালায়।

জানা যায়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া ওই কিশোর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা তার নাম হৃদয় হাসান ওরফে (জাহিদ)। তাঁর মা হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া জাহিদ বর্তমানে হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের কর্মী। এ ঘটনায় জাহিদের বাবা ও ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে হৃদয় পলাতক রয়েছে।

জাহিদের দেয়া ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সী একদল কিশোর–তরুণ জড়ো হয়। যাদের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে জানান স্থানীয়রা। রাত আটটার দিকে তারা মিছিল শুরু করে। ধীরে ধীরে মিছিলে লোক বাড়তে থাকে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও স্থানীয় কিছু উৎসাহী মানুষ এতে যোগ দেন।

হাজীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা কিশোর–তরুণেরাও মিছিলে যোগ দেওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজারে। পূজামণ্ডপের সামনে গিয়ে হঠাৎ মিছিল থেকে ইট ছোড়া শুরু করে কিছু কিশোর-তরুণ। স্থানীয় কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি।

পুলিশ বলছে, মিছিল বড় হতে দেখে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ সেখানকার ছয়টি পূজামণ্ডপে অবস্থান নেয়। কেন্দ্রীয় মণ্ডপের সামনে ছিল মিছিলের সবচেয়ে বড় অংশ। আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে একযোগে ছয়টি মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা করে মিছিলকারীদের থামানোর চেষ্টা করে। এরপর ১০৯টি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান চারজন। তাঁদের বয়স ২৩ বছরের মধ্যে। সেদিনের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরেকজন গতকাল মারা গেছেন।

তবে হামলায় অংশ নেয়া অনেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে যাঁরা হামলার উসকানি দিয়েছেন, তাদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Share.

Leave A Reply