fbpx

বরিশাল থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইন দক্ষিণের মানুষের দুঃখ ঘোচাবে : প্রধানমন্ত্রী

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

বরিশাল বিভাগের ১৮টি উপজেলাকে সংযুক্ত করে পায়রা বন্দর পর্যন্ত একটি রেল লাইন নির্মাণে অ্যালাইনমেন্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এটার ফিজিবিলিটি এখনও স্টাডি হচ্ছে, সেখানে রেল লাইন কিভাবে স্থাপন করা যায়।’

বুধবার শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংগ্রহ করা নতুন ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকোমেটিভের (ইঞ্জিন) উদ্বোধন করার সময় এ কথা বলেন তিনি।

এটি হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।

অনেক অঞ্চলে রেল লাইন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতার দিকটিও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দেখতে হবে যে, আমাদের নদী নালা খাল-বিলের দেশ। আমাদের মাটি অনেক নরম। সেটা বিবেচনা করে কতটা, কিভাবে কোন কোন জায়গায় রেল লাইন করা দরকার সেগুলো আমরা বিবেচনা করেছি।’

পদ্মা সেতুতে রেল যুক্ত করার প্রসঙ্গটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল লাইন যুক্ত করে যেমন ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ফরিদপুর হয় সেই রেল সংযোগ করে দিচ্ছি। যশোর থেকে খুলনা হয়ে একেবারে মংলা পোর্ট পর্যন্ত এ রেল লাইন সংযোগ স্থাপন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুন্দর করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সচল করা আরও উন্নত করা তারই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটা লাভজনক সেটাকে বড় করে না দেখে এর মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ কতটা সেবা পেল, জীবনমান কতটা উন্নত ও সহজ হলো সেটাই মুখ্য মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক বা বিদেশি পরামর্শকদের কথা শুনে বিএনপি সরকার বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিটিআরসি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে চাইলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা করেনি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করলে সব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এসময় শেখ হাসিনা রেল খাতে জনবলের অভাব রয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘এই লোকবল আমাদের বাড়াতে হবে। তার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা দ্রুত কার্যকর করা উচিত।’

এখানে লোকবল আরও ভালোভাবে দিতে পারলে পরে লাইনগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন নতুন যে লাইনগুলো তৈরি করছি, সেগুলো চালু হয়ে গেলে আমি মনে করি এটা আরও লাভবান হবে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের আর ক’দিন পরেই ঈদ। ঈদে আমাদের লোক চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি আজকে যে নতুন লোকেমেটিভ চালু হচ্ছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে ঈদের উৎসবে যোগ দিতে পারবে। নিজের আপন ঘরে ফিরতে পারবে। সেই সুবিধাটা হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ কোচ সম্বলিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ যেটা করা হয়েছে, আমি মনে করি জাতির পিতার যে অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বা বাঙালি জাতির জন্য সেটা আমাদের দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরের মাধ্যমে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও কর্ম, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে।

রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Share.

Leave A Reply