fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৭ই ডিসেম্বর ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

বাধা-চ্যালেঞ্জ জীবনের অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা : মেহজাবীন

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

একটি ছোট শিশুর হাঁটতে শেখা কি কেউ কখনো লক্ষ্য করেছেন? দেখবেন সে যখন হাঁটতে শেখে তখন বারবার হোঁচট খায়। পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। কিন্ত আবার উঠে দাঁড়ায়। আগের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে পুরো মনোবল নিয়ে হাঁটা শুরু করে।

মানুষের জীবনও কিন্ত সেরকম একই সুতোয় গাঁথা। চলার পথে আমরা বারবার ভুল করি। কিন্ত সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার জীবন সংগ্রামে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিন্ত যে ভুল থেকে শিক্ষা নেয় না, জীবন তাকে কিছুই দেয় না। ঠিক সে রকম এক তরুণ উদ্যোক্তার গল্প শুনাবো বিবিএস বাংলার পাঠকদের।

ফেনীর মেয়ে মেহেজাবীন রাখী। ২০১৭ এর ২৪ জুলাই স্বল্প পরিসরে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে উদ্যোক্তার খাতায় নিজের নাম লেখান। কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই সে বছর নভেম্বরে একটি আউটলেট খুলে বসেন। কিন্ত এটাই ছিল তার ভুল সিদ্ধান্ত। যা সময়ের সাথে সাথে তিনি বুঝতে পারেন।

রাখীর মা-বাবা দুজনেই ছিলেন চাকরিজীবী। ছোট বোনকে দেখাশোনা, দিনের রান্নার দায়িত্ব, পড়ালেখা, অনলাইন কাস্টমার, প্রডাক্ট রেডি করা, হ্যান্ডমেইড প্রডাক্ট প্যাকেজিং, ডেলিভারি সব তাকে একা হাতে করতে হতো। তার কোনো সহযোগী ছিল না। আউটলেট দেওয়ার পর সব একসঙ্গে সামলাতে না পেরে দুই মাসের মাথায় তা বন্ধ করে দিতে হয়। সেখানে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়।

ব্যবসার শুরুতে এতোবড় ধাক্কাটা তার জন্য সামলানো কঠিন ছিল। সে সময় একবার ভেবেছিলেন, হয়তো তার দ্বারা কিছুই হবে না। নিজের মনকে বোঝান। পরে শুধু অনলাইনকে বেইজ করে আবার কাজে নেমে পড়েন।

এবার তার মুখ থেকেই তার জীবনের গল্পটা শুনে আসি।

 উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পেছনের গল্পটা কী?

মেহজাবীন রাখী :  শখের জায়গা এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় শুরু করলেও পরবর্তীতে এটি আমার ক্যারিয়ার হয়ে ওঠে। গহনার প্রতি পছন্দ এবং আগ্রহ ছিল এবং মায়ের ইচ্ছে ছিল আমার নিজস্ব পরিচিতি থাকুক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা কোর্স ছিল না এ বিষয়ে। ফলে ইউটিউব, গুগল, পিন্টারেস্টই ছিল  একমাত্র সহযোগী। এভাবেই শুরু করেছিলাম।

পেজের নামকরণ নিয়ে বলুন…

মেহজাবীন রাখী : আমার পেজের নাম রূপ’স হ্যাভেন । এর বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, রূপ একজন ব্যক্তি এবং এটির রূপের স্বর্গ। আমার প্রথম ফেসবুক আইডিতে নাম ছিল রূপকথা এবং সেখান থেকে আমার উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীন সেই কলেজে আমাকে সবাই রূপ ডাকতে শুরু করে। তাই আমি যখন পেজ ওপেন করি তখন সার্চ করে দেখেছিলাম যে এই নামে অন্য কারো পেজ আছে কি না, দেখলাম নেই। তখন এই নামটি সিলেক্ট করে ফেলি। এটি সাজগোজের সাথেও রিলেটেড এবং আমার নামকেও রিলেট করে, এই ছিল নামের গল্প।

কী কী নিয়ে কাজ করছেন?

মেহজাবীন রাখী : বর্তমানে দেশি গহনা এবং শাড়ি। গহনা প্রত্যেকটি আমার নিজস্ব নকশায় এবং আমি নিজেই তৈরি করি। আর দেশি শাড়িগুলো টাঙ্গাইল এবং ঢাকা থেকে সরবরাহ করে থাকি যার মধ্যে তাঁতের শাড়ি অন্যতম।

বাধা-চ্যালেঞ্জ জীবনের অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা : মেহজাবীন

রূপ’স হ্যাভেনের শাড়ির সম্ভার

আমার প্রধান পণ্য ছিল গহনা, পরবর্তীতে ই-ক্যাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধেয় রাজিব আহমেদ ভাইয়ার পরামর্শে দেশি শাড়ি নিয়েও কাজ শুরু করেছি।

বাকিদের কাজের সাথে আপনার কাজের পার্থক্য কী?

মেহজাবীন রাখী : তুলনায় না গিয়ে আমি যে কাজগুলো করে থাকি এক্ষেত্রে সেগুলো বলছি, আমি চেষ্টা করি কাস্টমার সার্ভিসকে প্রাধান্য দিতে, প্যাকেজিং ও পণ্যের মান ত্রুটিমুক্ত রাখতে এবং সর্বোপরি ক্রেতা/সম্ভাব্য ক্রেতার প্রতি আন্তরিকতা দেখাতে।

বাধা-চ্যালেঞ্জ জীবনের অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা : মেহজাবীন

শাড়ির পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনের গয়নাও পাওয়া যায় এখানে।

কাজ করতে গিয়ে কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন?

মেহজাবীন রাখী : বহুবার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমার হয়রানি করেছেন, বুক করে রেখে পেমেন্ট দেরিতে করেন, প্রডাক্ট নেন না ডিউ টাইমে। এছাড়া কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর ভুলের দায়ে অনেকবার পণ্য নষ্ট হয়েছে, হারিয়ে গেছে, এর ফল মাথা পেতে নিতে হয়েছে আমাকে, লসও গুণতে হয়েছে। তবুও আমি বলবো, বাধা-চ্যালেঞ্জ জীবনের অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে কাদের ভূমিকা বেশি ছিল? 

মেহজাবীন রাখী : এক্ষেত্রে দুইজন মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রথমত, আমার মা শাহনাজ বেগম, যিনি নিজে একজন সরকারি চাকরিজীবী। মায়ের অনুপ্রেরণা এবং সাপোর্ট সবসময় সঙ্গে ছিল। দ্বিতীয়ত, অবশ্যই শ্রদ্ধেয় রাজিব আহমেদ ভাইয়া, ই-ক্যাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট এবং সার্চ ইংলিশের ফাউন্ডার। আমার উদ্যোক্তা জীবন ২০১৭ তে শুরু হলেও এটির প্রায় সব কিছুই ভুল তথ্যের ওপর ছিল, যা গত এক বছরে পুনর্জীবন পেয়েছে ভাইয়ার পরামর্শে। পাশাপাশি উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম ও ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার উদ্যোগে ভূমিকা রাখার জন্য।

বাধা-চ্যালেঞ্জ জীবনের অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা : মেহজাবীন

ই-ক্যাবের সাবেক সভাপতি এবং উইয়ের উপদেষ্টা রাজিব আহমেদের সঙ্গে রাখী

ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

মেহজাবীন রাখী :  দেশের প্রায় ৩০টির মতো জেলায় গিয়েছে আমার তৈরি পণ্য। আর দেশের বাইরে গিয়েছে পাঁচবার। ২০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন মাসিক গড়ে সেটি ১০ হাজারও হয়। রূপ’স হ্যাভেন সবসময় দেশিপণ্য নিয়ে কাজ করবে। আমি দেশিপণ্যের ই-কমার্স নিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবো,আরও জানবো,  শিখবো।

নিজেকে কোন অবস্থনে দেখতে চান?

মেহজাবীন রাখী :  নিজেকে নিয়ে আপাতত স্বপ্ন হলো নিজের সব ত্রুটি গুলো শোধরাতে চাই। দেশি পণ্যের ই-কমার্স নিয়ে কাজ করতে চাই সবসময়। আমার বর্তমান অবস্থান নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই শ্রদ্ধেয় রাজিব ভাইয়ার প্রতি। তাঁর প্রতিটি পরামর্শ আমাকে তাঁর আমাকে নিয়ে বলা কথাগুলো সত্যি হতে দেখিয়েছে।

নতুনদের জন্য কোনো পরামর্শ?

মেহজাবীন রাখী : পণ্য সম্বন্ধে জ্ঞান এবং ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য জেনে বুঝে উদ্যোগ শুরু করা ভালো। অন্য কেউ ভালো করছে ভেবে শুরু করে দেওয়ার মতো বোকামি আর হয় না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি একজন মেন্টর/পরামর্শক থাকেন যিনি প্রতিটি স্টেপে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন। দেশি পণ্য নিয়ে কাজ করতে উৎসাহী হোক নতুনরা , কারণ বর্তমানে সবচেয়ে ভালো বাজার এখন দেশি পণ্যের।

Advertisement
Share.

Leave A Reply