fbpx

‘ বৈঠকে হারানো মৈত্রী ফেরত চাই ‘

Pinterest LinkedIn Tumblr +

ড. তারেক শামসুর রেহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। বিশ্লেষণধর্মী লেখা ও বক্তব্যের জন্য তিনি সুপরিচিত। ‘বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর’ তার রচিত জনপ্রিয় বইসমূহের একটি। তার লিখিত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য বইয়ের মধ্যে আছে – আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোষ, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ভাবনা, নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও সমকালীন আর্ন্তজাতিক রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছেন। এই বৈঠক ও বাংলাদেশ, ভারত দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের কিছু টানাপোড়ন নিয়ে বিবিএস বাংলা’র সঙ্গে কথা বলেছেন ড. তারেক শামসুর রেহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের সংবাদকর্মী ফাহিমা তুজ জোহরা।

কতোটা গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক…

খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক মনে করছি। কারণ, ভারত আমাদের জন্য এক সফলতার দ্বার বয়ে আনতে পারে। তাদের সাহায্য নিয়ে আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। তবে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আমাদের সাথে তাদের বাণিজ্যিক যে ঘাটতি আছে, আমরা তা পূরণ করতে পারিনি। এ অর্থনৈতিক বিষয়ের বাইরেও আছে আরও কিছু অমীমাংসিত বিষয়। আজকের এই ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর সমাধান হবে প্রত্যাশা রাখছি।

কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতি তো বেড়েই চলেছে…

এটি সত্য। বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। তা একটি ভারসাম্যপূর্ণ জায়গায় থাকা উচিত। আমি মনে করি, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করা সম্ভব। বঞ্চিত বাংলাদেশ যাতে ভারতে বেশি পণ্য রফতানি করতে পারে সে সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে আজকের বৈঠকে।

অভিন্ন নদীর পানি বন্টন নিয়েও তো বিতর্ক আছে…

এ সমস্যা আজকের নয়। ফারাক্কা বাঁধ তৈরির সময় থেকেই এটি ঘটেছে। ভারতের সাথে আমাদের তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি এখনো সম্ভব হয়ে ওঠে নি। এই বৈঠককে কাজে লাগিয়ে সে ব্যাপারে চুক্তি হোক এটি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা।

সীমান্ত হত্যাও তো কমছে না…

হুম। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত হয়ে উঠেছে। সীমান্ত হত্যা বেড়েই চলেছে প্রতিদিন। এটি শুধু দুই দেশ নয় বরং পুরো বিশ্বে এক ধরনের বাজে প্রভাব ফেলছে। আমরা মনে করি, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

একাত্তরের ভারত আর আজকের ভারতের তফাত

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে যে মৈত্রী তৈরি হয়েছিলো তা আর নেই এখন। এটি দুই রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। ভুক্তভোগী হচ্ছেন জনগণ। আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে পুরোনো মৈত্রীর পথে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এর মধ্যে এক সম্ভাবনা আছে। আমি ভারতের সঙ্গে বৈঠকে হারানো মৈত্রী ফেরত চাই।

কোভিড পরিস্থিতিতে এ বৈঠক। এর তাৎপর্য…

কোভিড মহামারীকালে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর যে প্রকোপ রয়েছে, তা থেকে বাঁচাতে এবং টিকা সরবরাহে ভারত আমাদের সহায়তা করতে পারে। ইতোমধ্যে তারা এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেছে। এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে সেই সহায়তা যাতে আরও বাড়তে পারে, সে ব্যাপারেও আলোচনা হতে পারে।

ট্রানজিট নিয়ে একমত হতে পারেনি দুই দেশ…

দুই দেশের মধ্যে পণ্য আদান প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক মানের যে শুল্ক আমাদের পাওয়ার কথা, সেটি ভারতের কাছ থেকে আমরা পাচ্ছি না। সেক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এবং আশা করি ভারতের সাথে খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আমরা আশানুরূপ ফলাফল পাবো।

সমাধান  পথ …

আমাদের যে চাহিদা তা পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। দেশের যে নেগোশিয়েটর আছেন, তারা দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই আমার মতে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় স্বোচ্চার হতে হবে আমাদেরকে।

Share.

Leave A Reply