fbpx

ভাত বেচে ভাত জোগাড়ের বেহাল দশা!

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

অন্যের ভাতের জোগান দিতেন যারা, তারাই আজ নিজের ভাত জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বিক্রি নেই ভাতের হোটেলে। অলস সময় পার করছেন হোটেল মালিকরা।

মহাখালী, বাড্ডা, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লকডাউনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী হোটেলের ভেতরে বসে খেতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকেই। পার্সেল বিক্রি করছেন।

তবে পার্সেল বিক্রির পরিমাণ কম। সবাই হোটেলে বসে খেতে চায়। প্রয়োজনে না খেয়ে থাকবে তবুও পার্সেল নিতে চায় না কেউ। বেচাবিক্রির এমন অবস্থা চলতে থাকলে, আর কয়েকদিনের মধ্যে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে। লাভ তো দূর, পুঁজি বাঁচানোর আশঙ্কা জানালেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

তেজগাঁও শিল্প এলাকার কলোনী বাজার এলাকার বড় মিয়া হোটেলের মালিক বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই বেচাকেনা কম। কাস্টমার নাই বললেই চলে। অনেক কর্মচারী ছাঁটাই করতে হয়েছে। ইনকাম না হোক, দোকান ভাড়া, ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল সবই তো দিতে হয়। এমন চলতে থাকলে দু’একদিনের মধ্যেই দোকন বন্ধ করে দিব।’

মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার ভাতের হোটেল মালিকেরা জানালেন, ‘বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার পর থেকে দোকানে কাস্টমার নেই। শেরপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ বাসের ড্রাইভার, হেলপারসহ সবাই ভাত খেতে আসতো। অনেক সময় যাত্রীরাও আসতো। এখন ড্রাইভারও নেই, প্যাসেঞ্জারও নেই। শুধু শুধু দোকান খুলে রেখে ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

ফার্মগেট এলাকার ভাতের হোটেলের কর্মচারীরা জানালো, ‘আশেপাশের দু’একটা হাসপাতালের রোগীর স্বজনরা শুধু খাবার কিনতে আসে। অফিস ও মার্কেট বন্ধ থাকায়, চার ভাগের একভাগও বিক্রি হয় না। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। একেবারে বন্ধ করে দিলে না খেয়ে মরতে হবে, তাই সরকারের নির্দেশমতো সীমিত আকারে খোলা রাখি।’

মধ্য বাড্ডা এলাকার গলির ভেতর দিকের দু’একটি ভাতের হোটেলে দেখা গেছে, লুকিয়ে চুরিয়ে ঠিকই খাবার পরিবেশন করছেন অনেকেই। অপরাধ করছেন জেনেও খোঁড়া যুক্তি দেখালেন। ক্রেতারা জোর করে ঢুকে ভাত খেতে বসে গেছেন বলে দাবি করলেন হোটেলের মালিক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে দেশের প্রায় ৩০ লাখ হোটেল শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন।

গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বকেয়া মজুরিসহ জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত সরকারের সাহায্য চেয়েছেন ইউনিয়নের সদস্যরা।

Advertisement
Share.

Leave A Reply