fbpx

ভারতে কোভিড ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমতি চেয়ে ফাইজারের আবেদন

Pinterest LinkedIn Tumblr +

যুক্তরাজ্য এবং বাহরাইনের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে এবার ভারতের কাছে করোনা টিকা ব্যবহারের জরুরি অনুমোদন চেয়েছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার এবং তাদের জার্মান অংশীদার বায়োএনটেক।

জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজনে টিকা ব্যবহারের জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই) কাছে ফাইজার এ অনুমতি চেয়েছে। প্রথমবারের মতো ফাইজার ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অনুমোদন চেয়ে এ ধরনের আবেদন চেয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে ভারত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দিন দিন এই দেশটিতে করোনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ইতোমধ্যেই দেশটিতে প্রায় ৯৬ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। জানা গেছে, ফাইজার গত শুক্রবার এই টিকা বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছে।

এর আগে গেল মঙ্গলবার বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটেক তৈরী ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য। ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ জানিয়েছে, ভাইরাসটি প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ সক্ষম এই ভ্যাকসিন এখন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ হবে। এরই মধ্যে চার কোটি টিকার চাহিদার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। যা দিয়ে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। জনপ্রতি দুটি করে ডোজ দেওয়া হবে। খুব তাড়াতাড়ি এক কোটি টিকার ডোজ পাওয়া যাবে। যেখানে টিকা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দশকের বেশি সময় লেগে যায়। সেখানে মাত্র ১০ মাসে এই টিকার আবিষ্কার প্রক্রিয়া শেষ হলো।

বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে ,ফাইজার ভারতের ড্রাগ ও ক্লিনিকাল ট্রায়ালস বিধি, ২০১৯- এর অধীনে বিশেষ বিধান মেনে ভারতীয় জনগণের উপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল ছাড়ার পাশাপাশি দেশটিতে বিক্রয় ও বিতরণের জন্য ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি চেয়েছে।

এদিকে ডিসিজিআইয়ের সরকারী সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ভারতে করোনার টিকা আমদানির জন্য ফাইজারের আবেদন পত্রটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন ড্রাগস এবং ক্লিনিকাল ট্রায়ালস বিধি 2019 অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে এটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ব্রিটেনই জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর এ বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ২০২১ এর জানুয়ারিতে কানাডাতেও করোনার টিকা দেয়া শুরু হতে পারে।

এখন পর্যন্ত ফাইজারের টিকা ৯০ শতাংশ কার্যকরী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার জানান, ইতোমধ্যেই ভারতের তৈরি তিনটি টিকা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। তবে ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাপমাত্রা। কেননা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই টিকা পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে হবে।

এছাড়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভ্যাকসিন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদর পুনাওয়ালা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিট্রিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতের মানুষকে দেওয়া শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই ভ্যাকসিন ভারতের স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্কদের কাছে পৌঁছাবে। আর এপ্রিলের মধ্যেই তা আমজনতার নাগালের মধ্যে। এই টিকার দুই ডোজের দাম ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার রুপি।

Share.

Leave A Reply