fbpx

ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করতে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস তেল, এভিয়েশন ফুয়েল আমদানি করা সম্ভব হবে।

সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে আজ বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এ সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত সফর করেন শেখ হাসিনা। তাঁর এ সফরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জ্বালানি তেলের আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গত ২৮ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডকে (আইওসিএল) জিটুজি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, আইওসিএলের অন্তর্ভুক্তির ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস তেল, এভিয়েশন ফুয়েল আমদানি করা সম্ভব হবে। এতে দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

ভারত সফরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। লিখিত বক্তব্যে সেসব তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যার মাধ্যমে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত। ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত রেলসংযোগে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে, সংবাদমাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আমি বাংলাদেশের জন্য যে প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করেছি, তা সত্যিই অসাধারণ। এই প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। এই সফরে সহযোগিতার যেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।’

লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা টকশো করেন, যে যার মতো কথা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে কে এত কথা বলার সুযোগ পেয়েছে?’

‘আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায় আছে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর বারবার ক্যু হচ্ছিল। একজন মিলিটারি ডিক্টেটরের পর আরেকটা মিলিটারি ডিক্টেটর অথবা ডিক্টেটরের স্ত্রী ক্ষমতা নিয়ে গেল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে। জনগণের কী ছিল তখন? জনগণের কি আদৌ কোনো অধিকার ছিল। সারারাত কারফিউ, কথা বলা অধিকার নেই। সাদা মাইক্রোবাসে কে কখন গায়েব হয়ে যেত, এই তো ছিল বাংলাদেশের অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা টকশো করেন, যে যার মতো কথা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে কে এত কথা বলার সুযোগ পেয়েছে? পায়নি। একটা টেলিভিশন, একটা রেডিও। কোথায় টকশো, আর কোথায় মিষ্টি কথা? কথা বলার তো কোনো অধিকার ছিল না।’

‘এখন সব কথা বলার পর বলে কথা বলার অধিকার নেই। এটাও শুনতে হয়। আজকে রাস্তায় অন্দোলন। জনগণ সাড়া না দিলে, সেটা তো আমাদের দায়িত্ব না। আওয়ামী লীগ যে বিএনপির হাতে নির্যাতিত, সেটা কি ভুলে গেছেন,’ যোগ করেন তিনি।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে সেটা সময় বলে দেবে। আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে, আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। আমরা সরকারে আসার পর থেকে দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নের সবকিছু গ্রাম পর্যায় থেকে। করোনার সময় আমরা গ্রামে প্রচুর অর্থ সরবরাহ করেছি। মানুষ যেন কোনোভাবে কষ্ট না পায়, সেই চেষ্টা করেছি। অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে, এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। আর না চাইলে তো কিছু করার নেই, সেটা জনগণের ইচ্ছা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যারা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যে কোনো নির্বাচনে নমিনেশনে পরিবর্তন তো খুব স্বাভাবিক বিষয়। অবশ্যই আমরা যাচাই করে দেখব কার জেতার সম্ভাবনা আছে, কার নেই। আমাদের বেশ কিছু নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আছেন বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তাদের আর কষ্ট দিতে চাই না। এটা নির্বাচনকে সামনে রেখে, কে ভোট পাবে বা না পাবে, জিতবে কি না, সবকিছু বিবেচনা করে নির্বাচনে যাওয়া হয়।’

নির্বাচনের প্রায় ১ বছরের বেশি সময় বাকি আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময় যত যাবে, ততই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আমাদের সঙ্গে কে থাকবে না থাকবে, বা নতুন জোট হবে হোক, অসুবিধা নেই। সবাই নির্বাচনে পার্টিসিপেট করুক, সেটাই আমরা চাই। আর যদি কেউ না করে, সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমরা সংবিধান তো বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর তো সবাই চড়াও হয়েছে। লাশ টানতে টানতে আর আহতদের চিকিৎসা করাতে করাতে নাভিশ্বাস উঠেছিল আমাদের। আজ তো সেই পরিবেশ নেই।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব কী, এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতকে আমরা বলেছি তারা যেন মিয়ানমার ইস্যুতে সহযোগিতা করে। তাদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে মিয়ানমারের সরকারকে নিয়ে। যে যতই চাপ দিক—এরা কোনও ব্যাপারই নেয় না। এরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছে। এখানেই বড় সমস্যা। কিন্তু ভারত মনে করে—এটার সমাধান হওয়া উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত এটা উপলব্ধি করে যে আমাদের এখানে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান একটা সংকট সৃষ্টি করছে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। এটা আরও পরিবেশটাকে নষ্ট করছে। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানবিক কারণে তাদের স্থান দিয়েছি, কিন্তু এখন যে পর্যায়ে যাচ্ছে—তারা আমাদের জন্য বড় একটা বোঝা হয়ে যাচ্ছে। তারাও তো মানুষ, আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। আজকে শরণার্থী তো সব জায়গাতেই হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে কত মানুষ শরণার্থী হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের সবসময়ের আহ্বান—আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

Advertisement
Share.

Leave A Reply