fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৩০শে নভেম্বর ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

ভাষার সম্মানে হাইকোর্টে মামলার রায় বাংলায়

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

ভাষার মাসকে সম্মান জানাতে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের বেশির ভাগ রায় এখন বাংলায় হচ্ছে। যেখানে ১০ বছর আগে উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখার আদেশ ছিল খুবই কম। বর্তমানে উচ্চ আদালতে ৯৭ জন বিচারপতি আছেন যাদের কয়েকজন বিচারপতি বাংলা ভাষায় রায় লেখার আদেশ দেন।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় রায় লেখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর রায় অনুবাদের জন্য একটি সেল গঠন করে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি জানান, উচ্চ আদালতে এখন বাংলা ভাষায় রায়-আদেশ দেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এর সংখ্যা কত, সে তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি তিনি। তবে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের রায়টি আজ বাংলায় ঘোষণা করা হয়। রায়টি সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশ করেছেন আদালত। ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ড.মো.বশির উল্লাহ বলেন, গৌরবের ভাষা আন্দোলনের মাস চলছে তাই ভাষার মাসের প্রতি সম্মান জানাতে আদালত এ মামলার রায় বাংলাতে ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালে দেওয়া রায় বাংলায় লিখেছেন। ২০১৬ সালের ১৫ জুন ওই রায়টি বাংলা ভাষায় ঘোষণা দেওয়া হয়।

আসামির সংখ্যার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাযজ্ঞের মামলাটি। এই মামলায় হাইকোর্টের তিন বিচারপতির দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ২৯ হাজার ৬৭ পৃষ্ঠা, যার ১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠা বাংলায় লিখেছেন বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী। এর শব্দসংখ্যা ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮। বাংলা ভাষায় লেখা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রায় এটি। পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয় গত জানুয়ারিতে।

এই বিচারপতি ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পরের বছর থেকেই ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বেশির ভাগ আদেশ ও রায় বাংলায় দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মামলায় রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন তিনি।

তবে আশার খবর এই যে শুধু ভাষার মাসেই নয় ভবিষ্যতে আদালতে বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ দেওয়ার প্রচলন বাড়বে বলে জানান বিচারপতিরা।

Advertisement
Share.

Leave A Reply