fbpx

‘রাজনীতি বিপরীত দিকে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে’

Pinterest LinkedIn Tumblr +

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, রাজনীতি বিপরীত দিকে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গুণগতভাবে রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন ঘটেছে আমাদের সে ব্যাপারে ভাবতে হবে। তবে আজকাল কিছু সুযোগ-সন্ধানী রাজনীতিকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করায় রাজনীতি বিপরীত দিকে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।’

বুধবার (১৭ মার্চ) বিকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি ছিলেন মালদ্বীপের সফররত প্রেসিডেন্ট ইবরাহীম মোহম্মদ সোহিল এবং তার সহধর্মিনী ফাজনা আহমেদ।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিন এবং দেশের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করুন। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়। রাজনীতি হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করার স্থান।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভিডিও বার্তা পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ব-নেতৃবৃন্দ, তাদের ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের ব্যাপারে কথা বলেছেন, যা এই আয়োজনের আনন্দকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে এই উন্নয়ন সহযোগিদের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ ও জোরদার হবে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ চীন, কানাডা ও জাপান সরকার ও জনগণের অব্যহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটা নতুন প্রজন্মের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও জাতির পিতার অমূল্য স্মৃতি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে করে আগামী প্রজন্ম বাঙালি জাতির গৌরবময় ইতিহাস এবং পূর্ব-পুরুষদের অসীম সাহসীকতা ও দেশপ্রেম সম্পর্কে জানতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস ও আমাদের মুক্তির মহান বীর ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু তাঁর স্কুল জীবন থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত ও পরিবারিক জীবনের আনন্দ বা খুশির চেয়েও জন-সেবামূলক কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে স্বনির্ভর দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাংলাদেশ অদম্য গতিতে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি এই টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি অব্যহত থাকে, তবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ্।’

Share.

Leave A Reply