fbpx

লকডাউনের তিন সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ১১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা

Pinterest LinkedIn Tumblr +

করোনাভাইরাসের কাছে গোটা দেশ যখন নাস্তানাবুদ, দেশের শেয়ারবাজারে ঠিক তার উলতো ঘটেছে। কঠোর লকডাউনের মাঝে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের শেয়ারবাজার। গেল এক সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছে। এ নিয়ে লকডাউনের তিন সপ্তাহে মূলধন বাড়ল প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এসময় দাম বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মূল্যসূচক ও লেনদেনের গতিও বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

এর আগের দুই সপ্তাহেও শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। এসময় মূলধন বাড়ে ৯ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। আর শেষ সপ্তাহের পর লকডাউনের এই তিন সপ্তাহ পর ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ১১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা।

গেল সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ শতাংশ।এর আগের দুই সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৮০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। সে হিসেবে টানা তিন সপ্তাহ পর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ল ২২৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।

ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও বেড়েছে একই সময়ে। গেল সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দুই সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৯৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও লকডাউনের তিন সপ্তাহেই বেড়েছে। তিন সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচকটি ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৪৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩টির দাম।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে ১ হাজার ৬৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৮৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৩২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৫৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ফলে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফিড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, রবি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।

Share.

Leave A Reply