fbpx

লকডাউনে পোনা সংকটে বাগেরহাটের চিংড়ি চাষিরা

Pinterest LinkedIn Tumblr +

এবার অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছেন বাগেরহাট জেলার চিংড়ি চাষিরা। লকডাউনের কারণে পোনা না আসায়  এ বছরে চিংড়ির উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পরবেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাগেরহাটে চলছে পোনা ও পানির চরম সংকট, খড়ার কারণে একদিকে ঘেরে পানি নাই, পানি দিতে হলে নদী থেকে  শ্যালো ম্যাশিনের মাধ্যমে পানি আনতে হয়। আর অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে নেই চিংড়ির পোনা, অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছেনা পোনা। চাষিরা বলছেন এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পরবেন তারা।

আর এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ জানায়, বর্তমানে সরকারি হিসেবে বাগেরহাট জেলায় ৬৬ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার ৬৮৫টি বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৪২৭ মেট্রিক টন বাগদা ও ১৮ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন গলদা উৎপাদন হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে এর পরিমাণ আরও বেশি। এই উৎপাদনের ধারা বজায় রাখতে ২ কোটি গলদা চিংড়ির রেনুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান এই পরিস্থিতিতে সময় মত ৫০ শতাংশ গলদা পোনাও ছাড়তে পারবেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি চিংড়ি উৎপাদন হয় বাগেরহাট জেলায়।

পুকুর ডোবার বা নদীর পানি দিয়ে মৌসুমের শুরুতে পোনা ছাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন অনেক চাষি। আর লকডাউনের কারণে জেলার বাইরে থেকে সহজে পোনা আসতে পারছে না। এছাড়া নদী থেকে আহরিত পোনা চাষিদের হাতে পৌঁছানোর আগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আবারও নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হাটে ঘুরেও পোনার ব্যবস্থা করতে পারছেন না চাষিরা। বাগেরহাটের সব থেকে বড় গলদা চিংড়ি পোনার হাট ফকিরহাটের ফলতিতা।

বিশেষ করে ওই সব অঞ্চলে বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করেই চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল, কচুয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলতে সাধারণত চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে নদী থেকে নতুন পানি আসে। আবার বৃষ্টিও হয়। কিন্তু এবার বৈশাখের ১৮ দিন হলেও এখনও কোনো বৃষ্টির দেখা নেই। ঘের প্রস্তুত করেও পানির অভাবে পোনা ছাড়তে পারছেন না। ঘেরের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ইচ্ছে থাকলেও পোনা ছাড়তে পারছেন না তারা।

ফকিরহাটের ফলতিতা বাজারে প্রায় ৫০টির মত গলদা চিংড়ি পোনার আড়ত রয়েছে। যেখানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি পোনা বিক্রি হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

দেশের সব থেকে বেশি গলদা চিংড়ি উৎপাদিত হয় বাগেরহাটে। বাগেরহাটে ১৭টি বাণিজ্যিক হ্যাচারি ছিল, সেই হ্যাচারিগুলো এখন বন্ধ। যতদিন এসব হ্যাচারি চালু না করা যায়, বা অন্য এলাকার হ্যাচারিগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে গলদার পোনা আহরণের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বাগেরহাট জেলা চিংড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন ।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার চিংড়ি চাষিরা এই হাটে গলদা চিংড়ি পোনা ক্রয় করতে আসেন। কক্সবাজার, নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন স্থানের হ্যাচারি ও নদীর পোনা বিক্রি হয় এই হাটে। লকডাউনের কারণে পোনাবাহী পরিবহনগুলো জেলার বাইরের পুলিশ ও প্রশাসনের বাধার সম্মুখিন হওয়ায় সময় মত আসতে পারছে না। সব ধরনের বাঁধা উপেক্ষা করে যা আসছে তারও দাম অনেক বেশি। গেল বছর যেখানে নদীর পোনা ১৬শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই পোনাই এখন ২৫শ থেকে ৩৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কুয়াকাটা থেকে আসা হ্যাচারির পোনা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২২শ টাকা পর্যন্ত। যে পোনা গেল বছর বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৬ থেকে ৮শ টাকা হাজারে। তবে চাষিদের কাছে নদীর পোনার চাহিদা বেশি।

Share.

Leave A Reply