fbpx

লকডাউনে প্রকৃতি সেজেছে তার আপন রূপে

Pinterest LinkedIn Tumblr +

বাংলার ঋতুচক্রে আবার এসেছে ‘প্রখর তপন তাপে’র গ্রীষ্ম। এ ঋতু যেন উজ্জ্বলরাঙা ফুলের উচ্ছ্বাস। সুবাস ছড়ায় গাছ থেকে গাছে, প্রকৃতি ও প্রাণে।

লকডাউনের সময়টাতে ধুলোবালির অত্যাচার কমে যাওয়ায় প্রকৃতি ফিরেছে তার আপন রূপে। গাঢ়ো সবুজ পাতা, রঙ-বে-রঙের ফুল আর মিষ্টি মধুর সুবাসে প্রাণ ফিরেছে বাতাসে।

ভোরের আলোয় গাছ থেকে ঝড়ে পড়া হিজল। ছবি : বিবিএস বাংলা

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলন্ত মঞ্জুরীতে ফোটে গোলাপি আভাযুক্ত রক্তরাঙা হিজল। গভীর রাতে মিষ্টি মাদকতাময় গন্ধে ফোটা হিজল ঝরে পড়তে শুরু করে ভোরের সোনালি আলোর স্পর্শে। পানিপ্রেমী চিরসবুজ গাছটির ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ-ভারত হয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া হয়ে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। প্রচুর প্রাণশক্তিতে ভরা হিজল জলমগ্ন অবস্থায় টিকে থাকতে পারে পুরো ভেজা মৌসুম।

চকচকে সোনার রঙের সোনালু। ছবি : বিবিএস বাংলা

হাল্কা রোদের আলো, মিষ্টি সোনালি অথবা হলদে পাখির ডানার রঙের সোনালু। বিশাল ঝুলন্ত মঞ্জুরীতে সোনার বরণ সোনালু পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে ঝলমলে দ্যুতি ছড়ায় বাঙালির হৃদয়ে। পত্রমোচী সোনালুর আদিনিবাস বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া। গ্রীষ্মকালে এর আভা ছড়ায় সড়কে, বাড়িতে ও আঙিনায়।

মিষ্টি বেগুনি জারুল আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে। ছবি : বিবিএস বাংলা

মিষ্টি বেগুনির আঁচযুক্ত নীলরঙের জারুল। কোথাও মৃদু, কোথাও গাঢ় রঙের খেলা পুরো জারুল গাছে। মধ্যমাকৃতির পত্রমোচী গাছটি গ্রীষ্মকালে ঊর্ধ্বমুখী মঞ্জুরীতে ফোটায় রাশি রাশি ফুল। পুরো গাছের চাঁদোয়া জুড়ে দখল করে থাকা অসম্ভব সুন্দর বেগুনি-নীল জারুল ফুলের পাপড়ি খুব কোমল, দৃষ্টিসুখকর। এর আদিনিবাস চীন, মালয়, ভারত ও বাংলায়।

টকটকে লাল রঙের কৃষ্ণচূড়া, সড়কে আলো ছড়ায় সকাল ও সন্ধ্যায়। ছবি : বিবিএস বাংলা

সারি সারি কৃষ্ণচূড়া যেন আগুনলাগা রঙের। লাল, কমলা, হলুদ–উজ্জ্বল রঙগুলোর সরল ও দারুণ সংমিশ্রণ এক কৃষ্ণচূড়াতেই। মনোমুগ্ধকর রূপ ছাড়াও গ্রীষ্মকালে ছায়া দিতে বদ্ধ পরিকর কৃষ্ণচূড়া নামের এই গাছ। গাছটি এতটাই জনপ্রিয় যে পৃথিবীর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও আধা-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সব অঞ্চলেই এর দেখা মিলবে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম। বাঙালির হৃদয় জয় করা কৃষ্ণচূড়া এসেছে আফ্রিকার দূরদ্বীপ মাদাগাস্কার থেকে।

লকডাউনের এই সময়টার মতো করে প্রকৃতির এই সজীবতা ধরে রাখতে নাগরিকদের কী করণীয়?

প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন বিবিএস বাংলাকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে তার নিজস্ব স্বাধীনতায় বাড়তে দেওয়া উচিত। মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ পরিবেশ প্রকৃতির উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। এই বিষয়ে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়া দরকার। বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করলে, শিশুরা মনস্তাত্ত্বিকভাবেই পরিবেশ বান্ধব হয়ে বেড়ে উঠবে। কিভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হয়, কি কি কাজ করলে পরিবেশের ক্ষতি হয়না, সবকিছুই তারা শিখে বড় হবে।’

করোনা মহামারীর অসংখ্য খারাপ খবরের মধ্যে প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখাবে, এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

Share.

Leave A Reply