fbpx

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

Pinterest LinkedIn Tumblr +

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতৃবৃন্দের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌এটি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটি নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আমি দৃঢ়ভাবে অনুভব করি যে, আমরা নারী নেতাদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যা আমাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্রিত করবে না, বরং লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে’।

এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাবও রাখেন। লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে যেগুলো সঠিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘আমি লিঙ্গসমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যেক পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি।’

দ্বিতীয়ত প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে’।

তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘আমি লিঙ্গসমতার জন্য আমাদের সাধারণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে নেতৃবৃন্দের একটি সম্মেলন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত। লিঙ্গসমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর প্রভাব বিশেষত নারীদের জন্য কঠিন। অবৈতনিক যত্ন নেওয়ার কাজ বেড়েছে তাদের। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউনিসেফ এই দশক শেষের আগে আরও দশ মিলিয়ন বাল্যবিবাহের আশংকা করছে’।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে ৭ম অবস্থানে আছে। বর্ধিত সংখ্যক নারী কর্মীবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী এবং তারা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন। তৈরি পোশাককর্মীদের ৮০ শতাংশেরও বেশি নারী। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের অনেকেই চাকরি ও আয় হারিয়েছেন। নারীসহ ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। এতে করে দেশের কষ্টার্জিত অগ্রগতির চাকা পেছনে ঘোরার ঝুঁকিতে রয়েছে’।

Share.

Leave A Reply