fbpx

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানতে হবে ৮ পরামর্শ

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি আটটি সুপারিশ দিয়েছে।

গতকাল সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কমিটির এক সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। এ সময় কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভায় বলা হয়, সব শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক, কর্মচারী ও সমাজের মঙ্গল ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সব ধরনের ঝুঁকি কমাতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা দরকার। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এলাকায় কোভিড-১৯ এর পরবর্তী সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে (৫ বছরের কমবয়সী শিশু ছাড়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী)।

এছাড়া, কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত মানসম্পন্ন এবং সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা ও বিতরণ করার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি, যেমন হাত পরিস্কার রাখা (হাত ধোয়া/হাত জীবাণুমুক্তকরণ স্টেশন স্থাপন করা) ও সাধারণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমপক্ষে ৮০ ভাগ শিক্ষক ও কর্মচারীদের করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে। তারা দ্বিতীয় ডোজের ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে প্রথম ডোজের ১৪ দিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রথম দিকে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া, অন্যদের ক্লাস সপ্তাহে এক বা দুই দিন খোলা রাখা যেতে পারে। এর ফলে, যে ক্লাসটি খোলা থাকবে তার শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করে তাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসতে পারবে। তবে, অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখতে হবে।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয় সুপারিশে।

প্রথম দিকে কম সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি, যেন খাবার গ্রহণের জন্য মাস্ক খোলার প্রয়োজন না হয়।

আবাসিক সুবিধাসংবলিত স্কুল, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও কমিটি কিছু পরামর্শ দিয়েছে। যার মধ্যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম ইত্যাদি) বন্ধ রাখা। রান্নাঘর থেকে রুমগুলোতে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা। একাধিক শিক্ষার্থীর একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। মাদ্রাসায় এক সাথে নামাজ, ধর্মীয় সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার খুলে দেওয়ার আগে ‘করণীয়’ ও ‘বর্জনীয়’ কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। আর এই ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে অথবা অনলাইন সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এছাড়া, স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্য কর্মচারীদের মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং দৈনিক রিপোর্ট করার ব্যবস্থার পরামর্শ দেয় কমিটি।

যেসব জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, যেমন শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি, সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

Advertisement
Share.

Leave A Reply