fbpx

শিরায় প্রবাহিত সুরের পিংক ফ্লয়েড

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement
গান বুঝতে কান তৈরি হওয়া লাগে। এটি সময় সাপেক্ষ। ৯০ এর ছোটবেলায় ইংরেজি গান শোনা হতো কম। তখন বাংলা রকের উত্থান লগ্ন। ৭০ এর দশকে গুরু আজম খানের শুরু করা পথ প্রশস্ত হয় ৮০, ৯০ এর দশকে এসে। রকস্ট্রাটা, ওয়ারফেজ, এলআরবি, ফিলিংস, ফিডব্যাক, মাইলস, উইনিং – এ ডুবে ছিলাম আমরা। ৩৫ টাকা দামের অডিও ক্যাসেটের যুগ তখন। এ টাকাও যোগাতে কষ্ট হতো। বাসায় ব্ল্যাংক ক্যাসেট ছিল। তাতে ২০ টাকা দিয়ে এ পিঠ, বি পিঠ রেকর্ড করাতাম। যাক, পনেরো টাকা তো বাঁচত!
পিংক ফ্লয়েড প্রথমে শুনিনি, দেখেছি। মিউজিক ভিডিও দেখেছিলাম ‘এনাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’ এর। সম্ভবত তখন ক্লাস এইট। পিংক ফ্লয়েডের পরিবেশনা অন্য গ্রহের সঙ্গীত মনে হয় প্রথমে। গানের চিত্রায়ণে বেশি মুগ্ধ ছিলাম। যা একুশে টিভি আসার আগে অনুপস্থিত ছিল বাংলাদেশের গানে।
শিরায় প্রবাহিত সুরের পিংক ফ্লয়েড

পিংক ফ্লয়ডের এক্সিবিশনে। ছবি: সংগৃহীত

পিংক ফ্লয়েড প্রথমে ভর করে ইন্টারমেডিয়েটের সময়টায়। বাসায় তত দিনে পিসি, নেট, সিডি চলে এসেছে। কোনো গান মনে ধরলেই গুগলে সার্চ দিয়ে লিরিক খুঁজতাম। সঙ্গীত কখনো খুব একার। আবার কখনও সমষ্টির। বন্ধুরাও যখন পিংক ফ্লয়েডে ঝোঁকে তখন বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। মিরপুর দশের আড্ডায় রাত গভীর হয়েছে হাউ আই উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার শুনতে শুনতে। ইতোমধ্যে গিটারে দক্ষ বন্ধুরা অনেক গানের কর্ড শিখে ফেলে। ওদের সঙ্গে গলা মেলাতাম আমরা। ব্যান্ডটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, নিবিড়তা বাড়ে দিনে দিনে। আমরা ততদিনে শাহবাগমুখী। দিন, রাত মধুর ক্যান্টিন, চারুকলা। ছবির হাটে সংসার পাতার মতো অবস্থা। সন্ধ্যা, রাতে নতুন নতুন বন্ধুদের আগমন। রাতে উদ্যানের ভেতর ছোট পরিসরে কনসার্ট নিয়মিত। রজার ওয়াটার্স, সিড ব্যারেট, গিলমাররা যেন বাচ্চু, জেমস, কমল, বেজবাবা। সীমানা, ভাষা ছাড়িয়ে সঙ্গীত মিলন ঘটায় এভাবেই।
শিরায় প্রবাহিত সুরের পিংক ফ্লয়েড

গানে গানে স্বপ্ন দেখানো দল, ছবি: সংগৃহীত

আমাদের টি শার্টেও পিংক ফ্লয়েড। এভাবে তো আগে কাউকে শরীরে জড়াইনি। ব্যান্ড আসলে একটি বন্ডিং। বন্ডিং ভেঙে গেলে ব্যান্ডও ভেঙে যায়। পিংক ফ্লয়েডও এর ব্যতিক্রম নয়। আগের কেউ চলে গেছে। নতুন সদস্য ব্যান্ডে ঢুকেছে। কিন্তু রক জনরায় পিংক ফ্লয়েডের প্রভাব কমেনি। পিপার অ্যাট দ্য গেটস অব ডন থেকে এন্ডলেস রিভার তারই প্রমাণ। দশকের পর দশক জুড়ে এটিই চলছে। ভক্ত নামের কোটি কোটি উপাসক তৈরি করেছে ব্যান্ডটি। যারা আনন্দ, বেদনা, একা হয়ে যাওয়ার মূহুর্তে সহায় হন পিংক ফ্লয়েডের কাছে। সঙ্গীত যে শ্রেষ্ঠতম উপসমকারী তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শশ্রুসা দিচ্ছে এই কাল অতিক্রমকারী ব্যান্ডটি। রাজপথের মিছিলেও পিংক ফ্লয়েড সাথি আবার নিভৃত ঘরেও থাকা যায় তাদের আশ্রয়ে। শিরায় প্রবাহিত সুর তো এমনই হয়।
Advertisement
Share.

Leave A Reply