fbpx

শীতের সবজি ও ফলে আছে মহাগুণ!

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

শীতে বাজারে গিয়ে রঙবেরঙের সবজি দেখে মুগ্ধ হন না, এমন ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। একসাথে এতো সবজি অন্য কোন ঋতুতে পাওয়া যায়না।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতাদের মধ্যে শীতের সবজি কেনার ধুম পড়েছে। তারা বলছেন, শীতের সবজি দিয়ে রান্না করা যায় বিভিন্ন ধরনের মজাদার খাবার। ফুলকপির পাকোড়া, বাধাকপি দিয়ে গরুর মাংস অথবা মটরশুটি দিয়ে খিচুড়ি। এ সবই তৈরি করা যায় শীতের সবজি দিয়ে।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রং বা সৌন্দর্য নয় শীতের সবজিতে আছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, এন্টি-অক্সিডেন্টসহ ভিটামিন এ, বি ও সি। এসব উপাদান শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা ছাড়াও ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, বার্ধক্যরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদ তাসরিয়ার রহমান বিবিএস বাংলাকে বলেন, ‘বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতে বাজারে সবজি পাওয়া যায় বেশি। প্রতিটি সবজির আছে আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ। যেমন, শিমে আছে প্রচুর মিনারেল ও এন্টি-অক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ কমায়, কোষ্টকাঠিন্য হতে দেয় না এবং হজমে সাহায্য করে।‘

শিম, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, মূলা, গাজর, ওলকপি, শালগম, পালং শাক, সরিষা শাক কি নেই  শীতের বাজারে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ শীতের সবজির মতোই উপকারী। তারা বলছেন, এসব সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

তাসরিয়ার রহমান বলেন, মুলা শুনলেই আমরা অনেকে নাক সিটকাই। কিন্তু মুলাকে আমরা ভিটামিনের আধার বলে থাকি। এটি পেট পরিষ্কার করে, হজমে বাধা সৃষ্টি হতে দেয় না এবং শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। মুলার পাশাপাশি গাজরের উপকারিতাও অনেক। গাজর ক্যান্সার প্রতিরোধী হিসেবেই গুরুত্ব দেই আমরা।‘

সবজির বাজারের পাশাপাশি শীতে ফলের বাজারেও আছে বৈচিত্র্য। পুষ্টিবিদেরা বলেন, ‘কমলা, আঙ্গুরসহ ভিটামিন  এ ও সি সমৃদ্ধ ফল পাওয়া যায় এই ঋতুতে। চুল, ত্বক, দাঁতের মাড়ি ও চোখের জন্যে এসব ফলও হবে দারুন উপকারী। ভিটামিন সি শীতে ঠোঁট ও হাত পা ফাঁটা রোধ করতে সাহায্য করে। তাই শীতে বেশি বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে।‘

তাসরিয়ার রহমান বলেন, ‘শীতে প্রচুর ফল পাওয়া গেলেও রোগভেদে এসব খেতে আমরা কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করার কথা বলি। যেমন আর্থ্রাইটিসের রোগীদেরকে বিচি ও বিচিজাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে বলি। এগুলো ইউরিক এসিড বাড়ায় এবং ব্যাথার সৃষ্টি করে। কিডনি জটিলতা যাদের আছে, তাদেরকে টক বা টক জাতীয় অথবা পানির উপস্থিতি বেশি আছে এমন সবজি খেতে না করি। যেমন, মুলা, শশা, বাধাকপি, লাউ ইত্যাদি।‘

যারা ওজন কমাতে চান বা ডায়েট করতে চান, শীতকাল তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময়। এ সময়ের সবজি ও ফল দিয়ে বানানো সালাদ ও নিরামিষ খুব সহজেই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা।

Advertisement
Share.

Leave A Reply