fbpx
BBS_AD_BBSBAN
২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

শ্বশুরবাড়ির গ্রামের মেয়েদের হকি শেখাচ্ছেন নারী পঞ্চায়েত

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

পুরো ভারতের কাছে যাঁর পরিচয় রাজস্থানের হকিওয়ালি সরপঞ্চ নামে। গ্রামের মহিলাদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং নানানবিধ গঠনমূলক কাজ করে পুরো ভারতবাসীর কাছে শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছেন এই নারী পঞ্চায়েত। বিয়ের পর স্বামীর ঘরে এসে শুধু শ্বশুর বাড়ির দায়িত্ব নিয়েই থেমে যাননি বরং পুরো গ্রাম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নীরু যাদব নামের এই নারী পঞ্চায়েত।

ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন, হকি স্টিক হাতে দেশের নামোজ্জ্বল করবেন। তবে হকি নয়, পড়াশোনায় মন দিতে বলেছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এখন শ্বশুরবাড়ির গ্রামের মেয়েদের হকি খেলা শেখাচ্ছেন নীরু। বেশির ভাগ দিন কোচের পাশাপাশি নিজেই হকি স্টিক হাতে মাঠে নেমে পড়েন নীরু। কমবয়সি মেয়েদের ড্রিবলিং এবং ড্র্যাগিং করাও শেখান। তাদের জন্য হকি প্রশিক্ষকেরও বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। তাঁর আশা, নিজের স্বপ্ন অধরা থাকলেও এক দিন দেশের জার্সিতে হকি খেলবে এই গ্রামের মেয়েরা।

গ্রামের মহিলাদের উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। সেসব উদ্যোগে ব্যায় করছেন পঞ্চায়েত-প্রধান হিসাবে প্রাপ্ত নিজের ভাতার অর্থও। গত সেপ্টেম্বরে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ শোয়ে অমিতাভ বচ্চনের উল্টো দিকের আসনে বসে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জেতার পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গ্রামের মেয়েদের খেলাধুলো-সহ পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে সেই অর্থ ব্যয় করবেন।

হরিয়ানার বাসিন্দা নীরুর বিয়ে হয় সেই ২০১৩ সালে। বিয়ের পর স্বামী অশোক যাদবের সঙ্গে ঝুনঝুনুর লম্বী অহীর গ্রামে পাড়ি দেন তিনি। তার সাত বছর পর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম মহিলা প্রধান (সরপঞ্চ) হিসাবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

গ্রাম পঞ্চায়েতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন নীরু। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ের পর আক্ষরিক অর্থেই ক্ষমতার লাগাম রেখেছেন নিজের হাতে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের বহু গ্রামে মহিলারা পঞ্চায়েত প্রধানের আসনে বসলেও বকলমে তা পরিচালনা করেন তাঁদের স্বামীরা। তবে নীরুর ক্ষেত্রে তা হয়নি। পঞ্চায়েতের যাবতীয় সিদ্ধান্তে তাঁর স্বামীর কোনও ভূমিকা থাকবে না বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

গ্রামোন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মেয়েদের হকির প্রশিক্ষণের কাজে মনোযোগ দিয়েছিলেন নীরু। নিজের যে স্বপ্ন অধরা ছিল, তা অন্য মেয়েদের মধ্যে দিয়ে পূরণে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। হকি খেলার কথা তো দূরের কথা, গ্রামের বেশির ভাগ মেয়েদেরই কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার চল ছিল। তবে সে প্রথায় রাশ টানতে পেরেছেন নীরু।
এমনকী গ্রামের মেয়েদের খেলাধুলোর জন্য কোনও মাঠ ছিল না। কোচের সাহায্যে হকির প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করার পাশাপাশি নিজের সরকারি ভাতার পুরোটাই দান করে শেষমেশ গ্রামেই নিজেদের একটা খেলার মাঠ গড়ে তুলেছেন এই নারী গ্রাম প্রধান।

 

 

Advertisement
Share.

Leave A Reply