fbpx

সংস্কৃতিচর্চার বিকাশে প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রী

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতিচর্চার কোনো সংঘাত নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,  ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নবনির্মিত আটটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় সংস্কৃতিচর্চার বিকাশে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির কথা জানান। লোকজ সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি কুষ্টিয়া, খুলনা, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

দেশবাসীকে নববর্ষ ও ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির অনেকে সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়। এটা মোটেও সঠিক না। ধর্ম, যার যার ধর্ম। আমরা এটাই বলি, ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের। কাজেই উৎসব আমরা সকলে এক হয়ে পালন করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো একটি দেশে মানুষের জীবনে সংস্কৃতির চর্চা বা সংস্কৃতির বিকাশ এটা অপরিহার্য। কারণ এই সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে কিন্তু একটি জাতির স্বাতন্ত্র্যবোধটা আরও বেশি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। কাজেই আমরা সব সময় এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলা অর্থাৎ ৪৯৩টি উপজেলায় আমরা আমাদের কালচারাল কমপ্লেক্স গড়ে তুলব। যাতে প্রতিটি উপজেলা থেকে আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ পায়, সে ব্যবস্থাটা আমরা নিতে চাচ্ছি। উপজেলা পর্যায়ে নির্মিতব্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৪০০ আসনের মিলনায়তনসহ মাল্টিপারপাস হল থাকবে। সেই হলগুলো এমনভাবে তৈরি করতে হবে, সেখানে চলচ্চিত্র যেন দেখানো যায়। আমরা সেভাবেই করতে চাই। কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখে প্রকল্পগুলো তৈরি করা এবং সেগুলোর প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘লোকজ সংস্কৃতি অমূল্য সম্পদ। একেকটা অঞ্চলভিত্তিক যেসব লোকজ শিল্প যেমন, পালা গান, কবির লড়াই, কবিতা, গান যাত্রা- এ রকম বিভিন্ন জিনিস রয়েছে। যার মধ্য দিয়ে অনেক ঐতিহ্যও আমরা জানতে পারি। এগুলো চর্চা করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এগুলো বিকশিত করা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিনেমা আমাদের দেশের মানুষের বিনোদনের একটা অবলম্বন ছিল। যেটা পর্যায়ক্রমিকভাবে, আসলে প্রযুক্তির কারণে হোক, এটা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি, আমাদের প্রতিটি জেলায় উপজেলায় আবার সিনেমা হলগুলো তৈরি করা উচিত। সিনেমা হলের সঙ্গে শুধু সিনেমা হল না সিনেপ্লেক্স অর্থাৎ সিনেমা হলে সঙ্গে শপিং মলসহ সবকিছুই করতে পারেন।’

আটটি জেলার নবনির্মিত শিল্পকলা ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। যে যখন ব্যবহার করবেন অন্তত এগুলো যেন কোনোরকম ক্ষতি সাধন না হয়, সংরক্ষণটা ভাল হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। সরকার করে দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু সম্পদটা কিন্তু জনগণের, আপনাদের। কাজেই সে কথাটা মনে রেখে এটা যত্নসহকারে ব্যবহার করবেন, সেটাই আমি চাই।’

Advertisement
Share.

Leave A Reply