fbpx

সরকার করোনা টিকা পেতে চিঠি দিল চীনকে

Pinterest LinkedIn Tumblr +

ভারত থেকে পাওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মজুত শেষ হয়ে আসায় এবং আমদানি ও সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এবার করোনা টিকার জন্য সরকার রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের সাথেও যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টিকা কেনার আগ্রহপত্র পাঠানো হয়েছে

শনিবার (২৪ এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক চিঠি দিয়ে টিকা পেতে আগ্রহের কথা জানান চীনা দূতাবাসকেস্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, টিকার ক্ষেত্রে দুই দেশ তাদের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়াতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ এশিয়ায় টিকার জরুরি মজুতের জন্য চীনের উদ্যোগে গঠিত মঞ্চে যোগ দেওয়ার সম্মতির কথা জানিয়েছে। 

এছাড়া, টিকা পেতে গত শুক্রবার টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ বার্কলকেও চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ১০ কোটি ডোজ টিকা কিনতে অর্থায়নের আগ্রহের কথা সে চিঠিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। চিঠিতে বলা হয়েছে, দাতাদের আর্থিক সহায়তায় গ্যাভি বিনামূল্যে যে টিকা দেবে, তার বাইরেও বাংলাদেশ আগ্রহী টিকা কিনতে।

একই দিন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরেকটি চিঠি দে কোভ্যাক্সকে। আর তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য ১০ কোটি ৯ লাখ ডোজ টিকা বরাদ্দ ছিল কোভ্যাক্সের আওতায়। তা মার্চ মাস থেকে সরবরাহের কথা থাকলেও দেরি হয়েছে। সরকার আশা করছে, মে মাস থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হবে। তবে এখনো বাংলাদেশ সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে কোভ্যাক্সকে অনুরোধ করা হয়, যেন জরুরি সংকট মোকাবেলা করতে এখন অন্তত ৫ থেকে ১০ লাখ টিকা দেওয়া হয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কোভ্যাক্সকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশে টিকার চাহিদার পরিমাণ কোভ্যাক্সকে জানানো হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে কোভ্যাক্সের আওতায় ফাইজার-বায়োএনটেকের এক লাখ ডোজ টিকা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশেসার কথা রয়েছে

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চীন তাদের উদ্ভাবিত দু’টি টিকা পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। তারা একটি টিকার ৫ লাখ ডোজ উপহার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনা টিকা পরীক্ষা করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় নেওয়া হয়আর ততোদিনে ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও দেশে আসতে শুরু করে। তখন তা কেনার পাশাপাশি, বাংলাদেশকে প্রায় ৩৩ লাখ ডোজ টিকা উপহারও দিয়েছে ভারত সরকার

এখন ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের চাহিদা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনা নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ

এদিকে, গত বুধবার চীনের সিনোফার্মের প্রতিনিধি চায়না আরবান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট (বেইজিং) মেডিকেল টেকনোলজি কোম্পানি একটি চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। চিঠিতে বলা হয়, তারা বাংলাদেশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির (বিপিসিডিওএ) সূত্র থেকে জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ টিকা দরকার। এরইমধ্যে তারা বিপিসিডিওএকে জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে চীন থেকে সিনোফার্মের ১৫ লাখ করে টিকা বাংলাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব। চীন মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পর্যন্ত টিকা বাংলাদেশে সরবরাহ করতে সক্ষম বলে জানায় তারা।

ঢাকায় চীনা দূতাবাসকে দেওয়া টিকা কেনার ‘নন-বাইন্ডিং লেটার অব ইনটেন্টে’ ৫ লাখ টিকা উপহার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি টিকা পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী কিছু নথিপত্র প্রয়োজন।

বাংলাদেশে যে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠান টিকা পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিল তা হলো সিনোভ্যাক ও আনুই জিফেই। আর টিকার পরীক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছিল চীনের আনুই জিফেই লংকম বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। যা আর বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এ বিষয়ে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে আনুই জিফেই জানায়, তারা গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিল। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ঠিক করা থাকলেও পরীক্ষা হয়নি। এখন তারা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার বদলে জরুরি ব্যবহারের অনুমতি চায়। আনুই জিফেইয়ের চিঠির পরের দিনই ২০ এপ্রিল জবাব দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

জবাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, আনুই জিফেইয়ের টিকার সাতটি দেশে নিবন্ধন আছে কি না, তা আগে জানতে হবে। কারণ, বাংলাদেশ যেসব দেশের মানকে গ্রহণ করে সেসব দেশ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও জাপানে আনুই জিফেইয়ের টিকার অনুমোদন পেলেই সেটি প্রয়োগের অনুমোদন দেশে দেওয়া যাবে।

Share.

Leave A Reply