fbpx

৮০টি পাখি হত্যায় রামেকের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মামলা

Pinterest LinkedIn Tumblr +

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৮০ টি বন্যপাখি হত্যার ঘটনায় তিন কোটি টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। বন্যপাখি হত্যা ও তাদের আবাসস্থল ধ্বংসে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। এছাড়া পাখি হত্যায় পরিবেশের ক্ষতির কারণ হিসেবে আরও দুই কোটি, মোট তিন কোটি টাকার মামলা করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বাদী হয়ে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও কোনো আদেশ দেননি। রবিবার আদেশ হতে পারে।’

তবে বন্যপাখি হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলছেন রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওই মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, ‘রামেক হাসপাতালে ৮০টি বন্যপাখি হত্যা ও আবাসস্থল ধ্বংসে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকা। আর পাখিগুলো হত্যায় পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে আরও দুই কোটি টাকার। মামলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

আর্জিতে আরও বলা হয়েছে, মামলার বাদী গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খবর পান যে রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের গাছগুলোতে বাসা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পাখির বাসা কে বা কারা নষ্ট করছে। ওই খবরে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং ঘটনার সত্যতা পান, ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা গাছের গুঁড়ি এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ দেখতে পান।

সেখানকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, গাছ কাটার ফলে পাখির বাচ্চাগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক এবং রোগীর দর্শনার্থীরা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা জবাই করে বাড়ি নিয়ে যান।পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাখি হত্যার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়।

বন্যপাখি হত্যা করা, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করা, শিকার ও এ জাতীয় অপরাধ সংগঠনের সহায়তা করা, প্ররোচণা প্রদান ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাদি মনে করেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখির বাসস্থান ধ্বংস ও পাখিছানা হত্যা করে প্রচলিত ওই আইন অনুসারে অপরাধ করেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে আদালতে এই পিওআর মামলাটি করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুন গাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা জবাই করে নিয়ে যান শ্রমিক ও রোগীর স্বজনরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন।

 

Share.

Leave A Reply