fbpx
BBS_AD_BBSBAN
৪ঠা ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | পরীক্ষামূলক প্রকাশনা

এক অনবদ্য তারার পতন

Pinterest LinkedIn Tumblr +
Advertisement

ষাটের দশকের শুরুতে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। লিখেছেন শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে খল অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

শুধু অভিনেতা নন, তিনি একাধারে ছিলেন পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা ও গল্পকার। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এমনকি পরবর্তীতে তিনি লেখক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।

এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর  নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছিলেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিলেন আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন।

তাঁর পিতা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে রাজনীতি করতেন। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। এই সিনেমা তাঁর অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত রিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘রামের সুমতি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘মন বসেনা পড়ার টেবিলে’ চলচ্চিত্রে তাকে কৌতুক চরিত্রে দেখা যায়। খল চরিত্রে তার কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘স্বপ্নের নায়িকা’।

খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তের সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে প্রথম পরিচালনা করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটিকে নিয়ে ‘এবাদত’ নামের ছবিটি।

২০১৫ সালে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মননা ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।

এই অনবদ্য অভিনেতা ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১(শনিবার) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।

Advertisement
Share.

Leave A Reply