fbpx

কুমিল্লা মণ্ডপের ঘটনার দায় ফেসবুক এড়াতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী

Pinterest LinkedIn Tumblr +

কুমিল্লার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদক ফোরামের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরণের প্রচারণার ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়’ এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড না হতো তাহলে এই ঘটনা বিস্তৃত হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাও সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টের কারণে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই ফেসবুকে যদি এই পোস্ট না যেতো তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না। এটার সাথে যারা যুক্ত ছিল সবাই দায়ী। যে কোরআন শরিফ রেখে এসেছে, যে প্ররোচনা দিয়েছে, যারা একটি পোস্টের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই না করে সমাজে হানাহানি তৈরি করলো, তারা সবাই দায়ী। এবং একইসাথে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী কারণ তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে, এখানে তারা দায় এড়াতে পারে না। অতীতেও নাসিরনগরে, কক্সবাজারে রামুতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানেও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছে।

এসময় সাংবাদিকরা সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কি না এ প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অবশ্যই কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু সবকিছুই এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন সেটি যাতে খারাপ কাজে ব্যবহৃত না হয়। সেখানে যাতে স্বচ্ছতা থাকে।

ফেইক আইডি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে পরিচয় গোপন করে ফেইক আইডি দিয়ে পোস্ট দেয়া হয়, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এটির তো প্রতিকার হওয়া দরকার। সামাজিক মাধ্যম আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা। এটির অনেক ভালো দিক আছে। এটির যে খারাপ দিকগুলো এটি যাতে দূরীভূত হয়, সেজন্য ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দায় আছে, আমরা সেটিই বলতে চাচ্ছি।

সরকারের পক্ষ থেকে অনেক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল বাংলাদেশে যেন আইডি কার্ড দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট খুলতে পারে। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি বলেও জানান হাসান মাহমুদ।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০২টি মামলা হয়েছে, ৬শ’ মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েক দিনের মধ্যে সবার ঘরবাড়ি তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার এক লাখ টাকার বেশি নগদ সহায়তা পেয়েছে। অন্যান্য জায়গায় যে কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে বা যারা ঘর হারিয়েছে সবার ঘর করে দেয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রী সভায় জানান, অনিয়মিত অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরও অন্তত ২শ’ পত্রিকা যেগুলো বের হয় না, সেগুলোর ব্যাপারেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদপত্র যদি সঠিকভাবে বিল না পায় তাহলে তাদের পক্ষে সংবাদপত্র পরিচালনা করা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, কর্মচারিসহ সবার বেতনভাতা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং এটি যাতে না হয় সেটি আমরা খেয়াল রাখছি।

সভাশেষে তথ্যমন্ত্রী সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার ‘বঙ্গবন্ধু জীবনই বাঙালি জাতির রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ এবং সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা’র ‘বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় নারী উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গ্রন্থ দু’টির মোড়ক উন্মোচন করেন।

Share.

Leave A Reply