fbpx

দুই ছেলেকে ‘ঋতুচক্র’ বিষয়ে শিক্ষা দিলেন মা শাওন

Pinterest LinkedIn Tumblr +

মেহের আফরোজ শাওন এক শক্তির নাম। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, গায়িকা, পরিচালক। তবে এ সবকিছু ছাপিয়ে যায় একটি বিষয়, সেটা হচ্ছে তিনি প্রয়াত জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পর প্রায় একাই বড় করছেন দুই ছেলেকে। বাবা-মা দুজনের আদর দিয়ে, ছেলেদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন এই অভিনেত্রী। শুনতে এগুলো খুব সহজ হলেও কাজটি কিন্তু একদমই সহজ নয়। আমাদের সমাজে ‘সিঙ্গেল মা’ হয়ে নিজের মতো করে বেঁচে থাকা এতটা সহজ নয়। সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রেটি, কোনও ‘সিঙ্গেল মা’ই রেহাই পান না সমাজের বিভিন্ন আক্রমণ থেকে। কিন্তু সবকিছুকে পেছনে ফেলে নিজের মতোই বাঁচতে ভালোবাসেন শাওন।

ফেসবুকে ছেলেদের সাথে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট থেকেই বোঝা যায় ছেলেদের সাথে তার দারুণ সখ্যতা রয়েছে। একেবারে বন্ধুর মতোই ছেলেদের সাথে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ তিনি।

গত শনিবার (২৮ মে) ছিল ‘বিশ্ব ঋতু দিবস’ অর্থাৎ ঋতু চক্র দিবস। স্বাভাবিক নিয়মেই এটি মেয়েদের শরীরের একটি নিয়মিত চক্র। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে আজ অব্দি এটিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয় না। এর সাথে জড়িয়ে আছে নানা কুসংস্কার। বিশেষ করে, ছেলেরা এটিকে স্বাভাবিক একটি বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে এখনও প্রস্তুত নয়। এরও আছে বিভিন্ন কারণ। পরিবার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের দেশে এখনও এই বিষয়ে ছেলেদের তো বটেই মেয়েদেরও যথেষ্ট শিক্ষা দেওয়া হয় না। এতে ঘটে বিপত্তি।

আর এই বিষয়টি নিয়েই দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে শাওন নিজের ফেসবুক পেজে দিয়েছেন একটি পোস্ট। সচেতনতামূলক পোস্টটি বিবিএস বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হল-

‘ঋতু, ষড়ঋতু না- অন্য ঋতু। It’s ‘menstrual cycle’

মেয়েরা খুব কোমল হৃদয়ে, সচেতনতার সাথে এই শব্দটি উচ্চারণ করেন। কিন্তু এখনও অনেক পুরুষের কাছে এটা একটা নোংরা, নিষিদ্ধ শব্দ। এখনও অনেক মেয়ে রোজার দিনে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে না খেয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্য এমনকি নিজ সন্তান কিংবা বাবা,ভাইয়ের সামনে রোজা রাখার অভিনয় করেন। এখনও প্যাড কিনতে গেলে কণ্ঠ নামিয়ে চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দোকানদারের কাছে চাইতে হয়। আর দোকানি কাগজে মুড়িয়ে নিষিদ্ধ জিনিসের মতো সেই প্যাকেট হাতে দেয়! এখনও রাস্তায় কিংবা গণপরিবহনে কাপড়ে অনাকাঙ্খিত রক্তের দাগ দেখে বখাটে ছেলেরা কৌতুকপূর্ণ তীর্যক মন্তব্য এবং হাসাহাসি করে। এখনও অনেক কন্যা বাবার কাছে প্যাড কিনবার কথা বলতে পারে না। মা’কে মাধ্যম হিসাবে থাকতে হয়।

তবে অনেক মা তার ছেলে সন্তানটি বেড়ে ওঠার সময় তাকে মেয়েদের ঋতুচক্রের কথা জানায়। সেই সন্তানটিকে তার বোন, মেয়ে সহপাঠী এবং ভবিষ্যত নারী সহকর্মীদের প্রতি সংবেদনশীল করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

আমার বড়পুত্রের ১১ বছর বয়সে আমি তাকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছি। সে জানে ঋতু কোনো রোগ নয়… কোনো নিষিদ্ধ আলাপ নয়। ঋতু মেয়েদের অশুচি করে না। বরং ঋতু মাতৃত্বের পরিচয় বহন করে।

গতকাল ছিল World Menstrual Hygiene Day 2021. কাল ঋতুর বিষয়ে জানালাম ছোটপুত্রকে। সে খুব সহজ ভঙ্গিতে বলল- ‘Maa, next time when you’ll have your ঋতু, please let me know. I will help you with your chores. It must be very painful to do chores when you’re having ঋতু!’

Share.

Leave A Reply