fbpx

ওষুধ কিনুন খুব সাবধানে

Pinterest LinkedIn Tumblr +

আমরা সাধারণত একটু অসুস্থ হলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন না হয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসি থেকেই যে কোন রোগের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ওষুধ সেবন করে থাকি। কিন্তু কতটুকু নিরাপদ এভাবে ওষুধ গ্রহণ করা? যে সকল ফার্মেসিতে ওষুধ রাখা হয় সেগুলো কি মডেল ফার্মেসি? কেন মডেল ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনা উচিত?

ওষুধ কিনুন খুব সাবধানে

ছবি: বিবিএস বাংলা

এই মডেল ফার্মেসিটা আসলে কি? আসুন জেনে নেয়া যাক:

একটি মডেল ফার্মেসির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীদের সুচিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ওষুধ বিক্রির জন্য যে ফার্মেসি গঠন করা হয় সেটিই মডেল ফার্মেসি। যেটির আয়তন অন্তত ৩০০ বর্গফুট হওয়া ছাড়াও ওষুধ রাখার জন্য ভেতরের তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ব্যবস্থা, বিশেষ ওষুধ বা টিকার জন্য গুণগত ফ্রিজ থাকতে হবে। এছাড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী মডেল ফার্মেসিতে (লেভেল-১) কমপক্ষে একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট (‘এ’ গ্রেড) থাকবেন, তাকে সাহায্য করবেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট কাউন্সিল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের ‘বি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট। আর মডেল মেডিসিন শপে (লেভেল-২) কমপক্ষে দুই থেকে তিনজন ডিপেস্নামাধারী ‘সি’ গ্রেডের ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ নেই এমন কেউ ওষুধ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। ওষুধের গুণাগুণ ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, ফার্মেসির ছাদ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ওষুধ রাখা, প্রেসক্রিপশন সার্ভিস ডেস্ক, ফার্মাসিউটিক্যাল ও নন-ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্ট, মেডিকেল সাপস্নাই ও ডিভাইসের (যন্ত্র) জন্য আলাদা কর্ণার থাকতে হবে। জাতীয় ওষুধনীতি অনুযায়ী মডেল ফার্মেসিতে ৩৯টি ওষুধ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবস্থাপত্রবিহীন বিক্রি করা যাবে না। ওষুধের দোকানে  খাদ্যসামগ্রী, নিবন্ধনহীন ওষুধ, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসককে দেওয়া কোম্পানির নমুনা ওষুধ বিক্রি করা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ২ লক্ষের উপরে ফার্মেসির রয়েছে যা কিনা ফার্মেসির নামে শুধু মাত্র কিছু ঔষধের দোকান। এই দোকানগুলোতে না আছে সঠিক প্রক্রিয়ায় ঔষধ রাখার ব্যবস্থা, আর না আছে কোন প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। তাই নাম জানা না জানা বিভিন্ন ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও অরাজকতা প্রতিরোধে সম্প্রতি দেশব্যাপী মডেল ফার্মেসি স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অনুমোদন হলেও এটা কার্যকরে নেই কোন উদ্যেগ। সাধারণ ফার্মেসির সাথে জড়িতরা বলছেন জায়গা সংকট ও অর্থের অভাবে তারা মডেল ফার্মেসির অনুমোদন নিতে পারছেন না।

বর্তমানে দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসির সংখ্যা এক লাখ ২১ হাজার। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা ১৯ হাজার ৮০০। এর বাইরেও পান-বিড়ি-সিগারেটসহ মুদি দোকানেও পাওয়া যায় এসবই নকল ঔষধ। এ ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলে কতোটা ঝুঁকিতে আছে সাধারণ মানুষ? তবে সারাদেশে এ ধরনের মডেল ফার্মেসি দরকার বলেও মনে করেন ফার্মাসিস্টরা।

ওষুধ কিনুন খুব সাবধানে

ছবি: বিবিএস বাংলা

দেশের সধারণ মানুষের মডেল ফার্মেসি সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি, না হলে সাধারণ জ্বর, ব্যাথা বা যে কোন সাধারণ রোগের চিকিৎসাপত্র ছাড়াই মডেল ফার্মেসির আওতায় নয় এমন যে কোন ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয় করলে তা হতে পারে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ওষুধের দোকান আর ফার্মেসি মধ্যে পার্থক্য সম্পর্ক্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ওষুধের দোকান আর মডেল ফার্মেসির মধ্যে পার্থক্যটা সাধারন মানুষকে জানতে হবে। তাহলে সে সাধারণ ফার্মেসি থেকে নয় মডেল ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কিনবে।

লেবেল-এ ও লেবেল-বি- এই দুই ক্যাটাগরির দেশে ৪৩৬টি মডেল ফার্মেসির অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গেল দুই বছরে নিবন্ধন পেয়েছে ৩২ হাজার ৫৩৫টি। এর মধ্যে ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত আছে প্রায় ৫৫ হাজার দোকান, যেগুলো খুবই নিম্নমানের। এছাড়াও সারাদেশে নিবন্ধন ছাড়া কতগুলো ফার্মেসি আছে, তার সঠিক কোন হিসেন নেই অধিদপ্তরের কাছে। বলাই যায় কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম অবাধে বিক্রি হচ্ছে। আর ওইসব দোকানের নকল, ভেজাল ওষুধ সেবনের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

Share.

Leave A Reply