fbpx

নাস্তার টেবিলে পাউরুটি, বাড়াতে পারে মৃত্যুঝুঁকি!

Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রতিদিন সকালে নাস্তার টেবিলে পাউরুটি ছাড়া যেনো আমাদের চলেই না। ব্যস্ত জীবনে সকালে ঝটপট নাস্তা তৈরির জন্য পাউরুটির কোনও জুড়ি নেই। নিশ্চিন্তে সন্তানের পাতে তুলে দেওয়া এই পাউরুটি হতে পারে আপনার পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানীর বিভিন্ন বেকারি থেকে পাউরুটির নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে জানিয়েছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ পাউরুটিতে পাওয়া গেছে পটাশিয়াম ব্রোমেটের মতো ক্ষতিকর উপাদান। নরম, তুলতুলে ও ফোলাতে ইস্টের বদলে বেকারিগুলো পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহার করছে কম খরচের পটাশিয়াম ব্রোমেট। যার কারণে হতে পারে ডায়রিয়া, বমি, থাইরয়েডসহ ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ অসুখ।

নাস্তার টেবিলে পাউরুটি, বাড়াতে পারে মৃত্যুঝুঁকি!

পাউরুটি তৈরিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, বেশিরভাগই এ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না। তারা বলছেন, ব্যস্ত জীবনে আলাদা করে সকালের নাস্তা বানানোর সময় হয়না। আবার অনেকে ছেলেমেয়েদের পছন্দ অনুযায়ী পাউরুটি রাখেন নাস্তার টেবিলে।

মধ্য বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরার কয়েকটি মুদি দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, দোকানিরাও পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার সম্পর্কে প্রায় জানেইনা বলা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পাউরুটির প্যাকেটে থাকে হাতে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। এসব নিয়ে অভিযোগ করলেও কোন কার্যকরী পরিবর্তন হয়না বলে অভিযোগ করেছেন মুদি ও কনফেকশনারীর দোকানদারেরা।

পটাশিয়াম ব্রোমেট মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর? জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো-ভিসি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার বিবিএস বাংলাকে বলেন, ‘অল্প পরিমাণে পটাশিয়াম ব্রোমেট মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে দীর্ঘদিন কেউ যদি লাগাতার পটাশিয়াম ব্রোমেট গ্রহন করতে থাকেন তবে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এর ফলে হতে পারে কিডনি জটিলতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি, থাইরয়েড, জিনগত রোগ বা বিভিন্ন গ্রন্থিতে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগ।‘

ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু বেকারিতে ১২ পিপিএম এরও বেশি পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি পেয়েছে। যেখানে সর্বোচ্চ পরিমান নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ পিপিএম। আগে পাউরুটি ফোলানোর জন্য বেকিং পাউডার বা ইস্ট ব্যবহার করা হতো। এখন কমদামি পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার করা হয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধ করতে বেকারি মালিকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং আমি আশা করবো ভোক্তা অর্থাৎ যারা এটি গ্রহন করে থাকেন, তারাও এ বিষয়ে আরও সচেতন হবেন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করবেন।‘

পাউরুটি তৈরিতে বিষাক্ত উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়াজন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বিবিএস বাংলাকে তিনি বলেন, ‘যেসব ফ্যাক্টরিতে পাউরুটি উৎপাদিত হয়, সেসব ফ্যাক্টরিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অভিযান পরিচালনা করার লোকবল কম আছে ঠিক, কিন্তু ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেকারির খাদ্যে ভেজাল মেশানোর সাহস পাবে না। এটি আসলে নিয়মিত নজরদারি ছাড়া সম্ভবও নয়। তাছাড়া এসব নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।‘

পাউরুটি ও বিস্কুট তৈরিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার বন্ধে রাজধানী ছাড়াও জেলা উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের বেকারিগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। যারাই পাউরুটিতে ক্ষতিকর এই উপাদান ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটি।

Share.

Leave A Reply