fbpx

সিরিজ জয়, তবুও আক্ষেপ

Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ আর ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের পূর্ণ ত্রিশ পয়েন্ট, দুটোই নিশ্চিত হতো এই জয়ে। এক টিকিটে দুই সিনেমা দেখার মতো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ দল জিততে পারেনি, শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি, সঙ্গে হাতছাড়া হয়েছে ওয়ানডে সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ দশ পয়েন্ট। লঙ্কা অধিনায়ক কুশল পেরেরার অনবদ্য শতক আর দুস্মন্ত চামিরার গতির ঝড়ে একেবারে উড়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা হারিয়েছে ৯৭ রানে।

শুক্রবারের আবহাওয়ার মতো বাংলাদেশ দলের আকাশেও ছিল মেঘের আনাগোণা। টস হেরে শুরু, এরপর পাওয়ারপ্লেতে দুই লঙ্কান ওপেনারের ব্যাটিং ঝড়। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮২, তাসকিনের জোড়া আঘাতে আশার আলো দেখা গেলেও আশার পালে হাওয়া লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এক কুশল পেরেরা জীবন পেয়েছেন তিনবার। সুযোগটাও কাজে লাগিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার ২৮৬ রানের ভিত গড়ে দেওয়ার মূল কারিগর লঙ্কান অধিনায়ক। যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, তার উইলো থেকে আসে কার্যকরী অর্ধশতক।

লক্ষ্য ছিল ২৮৭। রান তাড়ায় বাংলাদেশকে প্রথম ধাক্কা দেন চামিরা। লঙ্কান পেসারের ফুল লেংথের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে তালুবন্দি হন লিটন দাসের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নাইম শেখ। শুরুর ধাক্কা পুরো ম্যাচে কখনোই আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি টাইগাররা। বলা যায় একাই বাংলাদেশ দলের কোমড় ভেঙ্গে দিয়েছেন চামিরা। নাইম শেখের পর তার শিকার সাকিব। অধিনায়ক তামিম ইকবালও পরাস্থ হয়েছেন চামিরার গতির সামনে, তবে কট বিহাইন্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে তামিমের অভিব্যাক্তি বলে দেয় আউটের সিদ্ধান্তে হতাশ ছিলেন তিনি।

যা চেষ্টা করার করেছিলেন মুশফিকুর রহিম আর গত ম্যাচে পাঁচ নম্বরে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন। আশা জাগিয়ে আরেকবার আশাহত করলেন দর্শকদের। দর্শকরা যখন আস্তে আস্তে বুনতে শুরু করেছিলেন জয়ের বীজ, তখনই অপ্রয়োজনীয় শটে লং অনে তালুবন্দি হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গত দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মুশফিক। পাঁচ নম্বরে পাওয়া সুযোগের সদ্বব্যবহার করেছেন মোসাদ্দেক, তবে অর্ধশতক পুরণের পর খেই হারিয়ে ফেলেছেন। ৫১ রান করে অহেতুক রিভার্স সুইপ করে যেভাবে আউট হলেন, মনে হচ্ছিল উইকেটে থাকার থেকে ড্রেসিংরুমে থাকাকেই মনে করছেন শ্রেয়।

প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের আক্ষেপ ছিল তাসকিন আহমেদের, দুস্মন্ত চামিরা সেই আক্ষেপ রাখেননি। প্রথম স্পেলের তিন উইকেটের পর দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারেই জোড়া শিকার, পুরণ হলো ফাইফার। তার পাঁচ উইকেট শিকারে বাংলাদেশের পরাজয় ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে।

Share.

Leave A Reply